Advertisement
E-Paper

ইজ়রায়েলে সরকার গঠনের চাবিকাঠি কি আরব দলগুলির হাতে? ধন্দ বহাল, ‘ভোটচুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর মুখেও

‘ভোটচুরির’ অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, আরব জনবসতিপূর্ণ এলাকার গণনাকেন্দ্রগুলিতে নির্বাচনী কারচুপি হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। —ফাইল চিত্র

৯৩ শতাংশ গণনাকেন্দ্রে প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটগণনা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ইজ়রায়েলে কোন দল বা জোট সরকার গড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে চলেছে। আর গাদি আইজ়েনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পাচ্ছে। ইজ়রায়েলের আইনসভা ‘নেসেটের’ মোট আসনসংখ্যা ১২০। তাই সে দেশে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুসংখ্যা (ম্যাজিক ফিগার) ৬১। কোনও দল বা জোটই অতগুলি আসন পায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইজ়রায়েলে রাজনৈতিক অনিয়শ্চতার আবহে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে আরব দলগুলি। প্রাথমিক গণনার পর দেখা যাচ্ছে, তিন আরব দল হাদাশ, তাল এবং বালাদের জোট ১২টি আসন পাচ্ছে। আর এক আরব দল র‌্যাম পাচ্ছে সাতটি আসন। অর্থাৎ, আরব দলগুলির হাতে রয়েছে মোট ১৯টি আসন।

কিন্তু নেতানিয়াহু তো বটেই, বিরোধী জোট আরব দলগুলির সাহায্য নিয়ে সরকার গঠন করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকেরই। আরবেরা ইজ়রায়েলের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ মাত্র। আরব বংশোদ্ভূত ইজ়রায়েলি নাগরিকদের বড় অংশের অভিযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে তাঁরা ‘বঞ্চিত’। তাঁদের ‘বঞ্চনার’ কথা তুলে ধরেই মূলত রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছিল আরব দলগুলি।

ইতিমধ্যেই মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের নেতা ইয়াইর গোলান আরব দলগুলির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজ়েনকট এই প্রস্তাব কতটা মানবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ একদিকে গাজ়ায় হামাসের সঙ্গে সংঘাত, অপর দিকে সিরিয়ায় ইরান প্রভাবিত হিজ়বুল্লার সঙ্গে সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে নীতিগত কিছু বিষয়ে স্পষ্টতই মতপার্থক্য রয়েছে আইজ়েনকটের। কিন্তু প্রধান বিরোধী শিবিরের আশঙ্কা, আরব দলগুলির সাহায্যে সরকার গঠন করলে ইহুদি ভোটাররা রুষ্ট হতে পারেন।

এর মধ্যে ইজ়রায়েলে ‘ভোটচুরির’ অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, আরব জনবসতিপূর্ণ এলাকার গণনাকেন্দ্রগুলিতে নির্বাচনী কারচুপি হয়েছে। ভুয়ো নথি দেখিয়ে, অন্যদের হুমকি দিয়ে ভোট লুটের অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও আরব দলগুলি নেতানিয়াহুর এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আরব দলগুলির বক্তব্য, নেতানিয়াহুকে গদিচ্যুত করতে তাঁরা বিরোধী জোটকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। প্রসঙ্গত, আরব দল র‌্যামের নেতা মনসুর আব্বাস ২০২১ সালে ইজ়রায়েলি নেতা নাফতালি বেনেট এবং ইয়াইর লাপিদের নেতৃত্বাধীন শাসকজোটে শামিল হয়েছিলেন। কিন্তু অতি দক্ষণপন্থীরা সমর্থন তুলে নেওয়ায় এক বছরের মধ্যেই সেই সরকার পড়ে যায়। ফের প্রধানমন্ত্রী হন নেতানিয়াহু।

ইজ়রায়েলের নির্বাচনী পদ্ধতি বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার থেকে আলাদা। এখানে ভোটাররা সরাসরি কোনও একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন না। করেন একটি দল বা যৌথ ভাবে ঘোষিত হওয়া প্রার্থিতালিকাকে, যাকে ‘লিস্ট’ বলা হয়। ইজ়রায়েলের আইনসভা ‘নেসেট’-এ প্রতিনিধিত্ব করতে হলে একটি দল বা জোটকে অবশ্যই অন্তত ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এই ভোট শতাংশের নিরিখে আসন বণ্টন হবে। কোনও দল বা জোট ন্যূনতম ৩.২৫ শতাংশ ভোট না পেলে অন্য দলগুলির মধ্যে সেগুলি বণ্টন করে দেওয়া হবে।

ইজ়রায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড়ের জন্য কোনও দল বা জোটের নেতাকে ২৮ দিন সময় দেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট। প্রয়োজনে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে বৃহত্তম দল বা জোট সরকার গঠন করতে না-পারলে অন্য এক জন নেতাকে বেছে নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। যদি তিনিও জোট গঠন করে সরকার গড়তে ব্যর্থ হন, তবে ‘নেসেট’-এর সদস্যেরা তৃতীয় নেতা বাছার জন্য আবেদন করতে পারেন প্রেসিডেন্টের কাছে। আর সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হতে পারে ইজ়রায়েলে। যত দিন না সরকার গঠন হচ্ছে, তত দিন অবধি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ইজ়রায়েলের প্রেসিডেন্ট। সেই হিসেবে আপাতত নেতানিয়াহুই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইজ়রায়েলে পাঁচ বার আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচন হয়। প্রতি বারই জোটের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ৩২টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু বেশ কয়েকটি কট্টর দক্ষিণপন্থী দলের সঙ্গে জোট গঠন করেন, যার ফলে তিনি ও তাঁর মিত্রেরা মোট ৬৪টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। এ বারের নির্বাচন সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহু ধরে রাখতে পারছেন না বলেই ইঙ্গিত মিলছে।

ইজ়রায়েলের নির্বাচনী ফলাফল আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হবে ৪ নভেম্বর (বুধবার)। তবে শুক্রবারের মধ্যেই গোটা ছবিটা অনেকাংশে স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

israel Benjamin Netanyahu

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy