মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আবার বিমান হামলা চালাল সে দেশের শাসক জুন্টা বাহিনী। গত ৪৮ ঘণ্টায় দু’টি প্রদেশের চারটি জনপদের আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল এবং স্কুলে যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সু চির সমর্থক স্বঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাওয়াদি’ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাখাইন প্রদেশ কার্যত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত। তাইল্যান্ড সীমান্ত লাগোয়া পূর্বাঞ্চলীয় কারেন্নি (কায়াহ) প্রদেশে দুই বিদ্রোহী সংগঠন, কারেন্নি ন্যাশনালিটিজ ডিফেন্স ফোর্স ও কারেন্নি আর্মির শক্ত ঘাঁটি। রাখাইন প্রদেশের ম্রাউক-ইউ, কিয়াউকতাও টিউনশিপ এবং কিয়াউকফিউ টাউনশিপে যুদ্ধবিমান ও জ়াইরোকপ্টার হামলা চালায় মায়ানমার সেনা। পাশাপাশি, যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হয় কারেন্নি প্রদেশের লইকাও টাউনশিপেও।
হতাহতেরা সকলেই সাধারণ নাগরিক বলে জানিয়েছে ‘দ্য ইরাওয়াদি’। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জন নারী ও শিশু। চলতি বছর এই নিয়ে মায়ানমার সেনার আকাশপথে হামলায় প্রায় ৫০০ জন অসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হল। সাধারণ নির্বাচনের পরে গত ১০ এপ্রিল মায়ানমারে নতুন সরকার শপথ নিয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে অশান্তির মেঘ জমে ভারতের পড়শি দেশে। রাখাইন প্রদেশে সক্রিয় আরাকান আর্মি এবং চিন প্রদেশে সক্রিয় তাদের সহযোগী জুন্টাবিরোধী নতুন জোট ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর শরিক ‘ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স’, সাগাইন অঞ্চলে সক্রিয় ‘ইয়াও আর্মি’ এবং ‘মনিওয়া পিপল্স ডিফেন্স ফোর্স’ নতুন করে জুন্টাসেনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করে। এর পরে গত কয়েক মাসে ওই দুই প্রদেশে অসামরিক জনবসতি লক্ষ্য করে জুন্টাফৌজ বার বার বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।