বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার তিনি ওই পদ থেকে ইস্তফা দেন। সায়মার পদত্যাগের এক দিন আগে, ৮ সেপ্টেম্বর, তাঁকে পদ থেকে সরানোর সুপারিশ করেছিল হু-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটি। ‘নিউজ়১৮’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, হাসিনার কন্যা বলেই তাঁকে রাজনৈতিক কারণে নিশানা করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে হু-র প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সায়মা। হাসিনা-কন্যার দাবি, গেব্রিয়েসাসের বিরুদ্ধে যখন বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছিল, তখন তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়নি। এমনকি হু-র প্রধানকে সবেতন ছুটিতেও পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। তা হলে কেবল তাঁকেই কেন অনির্দিষ্ট কালের জন্য বেতনহীন ছুটিতে পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সায়মা। প্রসঙ্গত, তাঁর পদত্যাগপত্রেও গেব্রিয়েসাসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন হাসিনা-কন্যা।
২০২৪ সালের অগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সায়মার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাসিনা-কন্যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। তার পরেই ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সায়মাকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল হু। পদত্যাগ করার আগে পর্যন্ত বেতনহীন ছুটিতেই ছিলেন হাসিনার কন্যা। সায়মার দাবি, হু-র প্রধান ইউনূস সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিল। এই সংক্রান্ত প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন হাসিনা-কন্যা। এই প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, হু-র সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এই যোগাযোগ ‘মান্য কূটনৈতিক বিধির পরিপন্থী’।
তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে নিশানা করা হল কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে সায়মা বলেন, “আমি শেখ হাসিনার কন্যা। আর হ্যাঁ, আমায় রাজনৈতিক ভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর (হাসিনা) শত্রুরা আমায় লক্ষ্যবস্তু করেছে।”
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, চিন সফরে গিয়ে হাসিনা-কন্যা আর্থিক দুর্নীতি করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলে হু। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে গত ৩ জুলাই হু-কে একটি চিঠি দেন সায়মার আইনজীবীরা। সাক্ষাৎকারে হাসিনার কন্যা বলেন, “চিন সফর নিয়ে যে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে আমি অব্যাহতি পেয়েছি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সফরটাও আর হয়নি।”
২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির ভোটে হু-র ওই শীর্ষস্তরের পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সায়মা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদে নিযুক্ত করে হু। পদত্যাগের কারণ জানিয়ে হু-র প্রধানকে পাঠানো চিঠিতে সায়মা লিখেছিলেন, “প্রায় এক বছর আপনার নির্দেশে আমি বেতন বা সাম্মানিক ছাড়াই ছুটিতে রয়েছি। আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের কারণ আরও সবিস্তার জানিয়ে হাসিনা-কন্যা বলেন, “তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ এবং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি তাতে পুরোপুরি সহযোগিতা করেছি। বেতন ছাড়াই প্রায় একবছর ছুটিতে ছিলাম। আমি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত এবং আর্থিক ভাবে নিঃশেষিত। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আমার কোনও কাজ নেই। আমি ফের কাজে ফিরতে চাই এবং পৃথিবীতে ভাল কিছু করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।”