নেপালের বিপর্যয়ে নিখোঁজদের পরিচয় বার করতে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা শুরু হল রাজ্যে। বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল এং আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়।। দাবি, নেপালেও সেই নমুনার রিপোর্ট পাঠানো হতে পারে।
সূত্রের খবর, আত্মীয়দের থেকে কী ভাবে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে এবং কোন পদ্ধতি মেনে তা বেলগাছিয়ার ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠাতে হবে সেই বিষয়ে এ দিন একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে স্বাস্থ্য দফতর। প্রশাসনের অন্দরের খবর, নেপালের ভোটে কোশি নদীতে বয়ে বিহার পেরিয়ে এ রাজ্যের গঙ্গাতেও দেহ বা দেহাংশ ভেসে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যে সমস্ত জায়গায় ওই দেহাংশ উদ্ধারের সম্ভবনা, সেখানকার স্থানীয় ময়নাতদন্ত কেন্দ্রের ফরেন্সিক মেডিসিনের চিকিৎসক, সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের সুপার, মেডিক্যাল অফিসার, মেডিকো-লিগ্যাল পদমর্যাদার প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন আরজিকরের উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান পরাগবরণ পাল, এনআরএসের বিভাগীয় প্রধান
সৌরভ চট্টোপাধ্যায়।
তবে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিতে পুলিশ বা জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকের মাধ্যমে আসতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। এ দিন শিলিগুড়ির সমর মণ্ডলের বাবা গোপাল মণ্ডলকে নমুনা সংগ্রহে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে যায় পুলিশ। খড়্গপুরের অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী স্বপনকুমার সিংহের পরিজন জেলা প্রশাসনের কাছে ডিএনএ পরীক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন। এ
দিন খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে রক্তের নমুনা দিয়েছেন স্বপনের
ছেলে অর্ণব।
এ দিন মুকুল রায়ের পূত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের মায়ের নমুনা সংগ্রহ করেছে কামারহাটি সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ। ডায়মন্ড হারবারের কেয়া প্রামাণিক এবং মিতালি মণ্ডলের পরিজন, চন্দননগরের শিপ্রা রায় পাটারির ভাইয়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আবার, উত্তরপাড়ার দম্পতি ক্ষিতিশচন্দ্র বিশ্বাস ও মমতা বিশ্বাসও নেপালে নিখোঁজ। এ দিন মমতার ভাই সমীর বারুইয়ের নমুনা সংগ্রহ করেছে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতাল। তারকেশ্বরের স্নেহাশিস দত্তের ছেলে সায়নদীপ এবং জয়ন্ত সান্যালের বাবা বিমলের নমুনা সংগ্রহ করেছে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতাল।
নেপালে গিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সন্দীপ গড়াইয়ের দাদা দীপক। ফোনে তিনি বলেন, ‘‘অনেক হাসপাতালে ঘুরেও ভাইয়ের কোনও খোঁজ পাইনি। আমরা ফিরে আসছি।’’ বসিরহাটের দম্পতি স্বপন ও মৌ মণ্ডলের খোঁজে কাঠমান্ডুতে গিয়ে তাঁদের ছেলে উষ্ণীষও এ দিনই ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দিয়েছেন। তবে, দুর্গাপুরের পাঁচ নিখোঁজ পর্যটকদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহে অগ্রগতি হয়নি।