E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

চিনা যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু ঢাকার

সূত্রের খবর, চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ফাইটার বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০২

—প্রতীকী চিত্র।

চিনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমান জানিয়েছেন, জে-১০সিই ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে আলোচনা এবং দর-কষাকষির জন্য খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত। চলতি অর্থবর্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ হলে প্রক্রিয়াটির আরও অগ্রগতি ঘটবে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ঢাকার এই তৎপরতা নয়াদিল্লিরচিন্তা বাড়াবে।

নিজেদের বায়ুসেনার আধুনিকীকরণের কথা মাথায় রেখেই চিনা যুদ্ধবিমান কেনার তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ। সূত্রের খবর, চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ফাইটার বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে জে-১০সিই কেনা বিচ্ছিন্ন সামরিক তৎপরতা নয়, দাবি ঢাকার। বাংলাদেশ প্রশাসনের একটি সূত্রের যুক্তি, চিনা জে-১০ যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রাফালের বিরুদ্ধে জে-১০-এর সাফল্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় রাফাল বা ইউরোফাইটারের তুলনায় চিনা যুদ্ধবিমানকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বলেও মনে করা হচ্ছে।

সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমানের প্রকৃত ক্ষমতা তার মডেলে নির্ধারিত হয় না। কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, রেডারের ক্ষমতা, ডেটা-লিঙ্ক ও নজরদারি ব্যবস্থা কতটা উন্নত, পাইলটদের প্রশিক্ষণ কেমন এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তা কতটা কার্যকর—সব মিলিয়েই একটি যুদ্ধবিমান কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা অর্জন করে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, বাংলাদেশের চিনা যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে সক্রিয়তায় মূলত তিনটি বিষয়ের দিকে নজর থাকবে— কতগুলি জে-১০সিই কিনছে, সেগুলির সঙ্গে কী ধরনের অস্ত্র ও প্রযুক্তি থাকছে এবং চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কতটা গভীর হচ্ছে।

বাংলাদেশের এই তৎপরতা ভারতের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক কূটনীতিকের কথায়, ‘‘বাংলাদেশ যদি আধুনিক চিনা যুদ্ধবিমান হাতে পায়, তা হলে পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমা ও সামরিক পরিকল্পনায় নতুন একটি বিষয় যুক্ত হবে। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়টিতে স্বাভাবিক ভাবেই ভারতের নজরে থাকবে।’’

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হতে আগ্রহী বাংলাদেশ। গত সপ্তাহেই বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সূত্রের মতে, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তির আনুষ্ঠানিক কাঠামোর অংশ নয়। এ দিন তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের বৈঠকের আলোচ্যসূচি থেকেও এমন কোনও ইঙ্গিত নেই যে, অদূর ভবিষ্যতে ঢাকার সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনীতিকদের একাংশের মতে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের তৎপরতার কারণ হল: সৌদির আর্থিক শক্তি, তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা তাদের কৌশলগত বিকল্পবাড়াতে পারে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Fighter Jet

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy