আমেরিকায় চাকরি হারালে নতুন কাজ খোঁজা বা দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য এত দিন যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত সময় (গ্রেস পিরিয়ড) মিলত, তা পুরোপুরি বাতিলের প্রস্তাব দিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকান হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি দফতর বৃহস্পতিবারএই সংক্রান্ত খসড়া নিয়ম প্রকাশ করেছে। শুক্রবার সরকারি গেজেট ‘ফেডারেল রেজিস্টার’-এ সেটি নথিভুক্ত হওয়ার পরে দু’মাস জনসাধারণের মতামতের জন্য রাখা হচ্ছে। তার পরেই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে ভারতীয়দের উপরেই। আগামিকাল নয়াদিল্লিতে শুরু হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। তার আগে এই নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বিদ্ধ করছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ফুলের তোড়া নয়, ব্রিকসের আগে ধেয়ে আসছে ইট।’
নতুন নিয়মে চাকরি খোয়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিদেশি কর্মীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট মর্যাদা শেষ হবে এবং অবিলম্বে দেশ না ছাড়লে শুরু হতে পারে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া। ফের আমেরিকান নিয়োগকর্তার কাজ পেতে হলে দেশে ফিরে আমেরিকান দূতাবাস থেকেই নতুন ভিসার আবেদন করতে হবে। আমেরিকান হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি দফতরের বক্তব্য, নিয়োগকর্তারা বিদেশি কর্মীদের বহাল রাখতে ‘আই-১২৯’ পিটিশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন। তাদের যুক্তি, এতে প্রশাসনিক বোঝা কমবে এবং শূন্যপদে আমেরিকানদের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
২০২৪ সালের হিসাবে অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭১ শতাংশই ভারতীয়দের। বছরে সাধারণ কোটায় ৬৫ হাজার এবং আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ হাজার এইচ-১বি ভিসা বরাদ্দ থাকে। এই নিয়ম কার্যকর হবে ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসার ক্ষেত্রেও। ফলে টিসিএস, ইনফোসিস, এইচসিএল বা ডেলয়েট, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর মতো সংস্থায় কর্মরত এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি কর্মীরা বিপাকে পড়বেন। আইনি পরামর্শদাতা সংস্থা ‘বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল’ জানিয়েছে, এতে সংস্থাগুলির এইচআর টিমের পক্ষেও ছাঁটাই ও অফবোর্ডিং প্রক্রিয়া সামলানোর সময়সীমা আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাবে।
হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন উপদেষ্টা অজয় জৈন ভুতোরিয়া এই প্রস্তাবকে ‘অমানবিক’ বলে গ্রেস পিরিয়ড ১৮০ দিন করার দাবি তুলেছেন। ইউসি ডেভিস স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন এবং ‘এফডব্লিউডি ডট ইউএস’-এর প্রেসিডেন্ট টড শুল্টও এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ফি বৃদ্ধি-সহ অভিবাসনে একাধিক কড়াকড়ি করেছে। এ বার ২০১৬ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের আনা এই রক্ষাকবচও বিলোপের প্রক্রিয়াশুরু হল।