প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে। জাতীয় জনমত সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে লড়াই তীব্র হওয়ার ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষত সেনেটের কয়েকটি রাজ্যে সামান্য ভোটের ব্যবধানই নির্ধারণ করতে পারে ক্ষমতার ভারসাম্য।
এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ হাউস অব রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনের সব ক’টিতে এবং সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি, ৩৬টি প্রদেশে গভর্নর নির্বাচন। হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন, সেনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫১টি।
প্রায় ২৫ কোটি ভোটদানের যোগ্য নাগরিকের দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন রিপাবলিকানদের সব থেকে বড় উদ্বেগের কারণ। একটি সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় গত দু’বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা পদক্ষেপ করেছেন, তাতে সমর্থন জানিয়েছেন ৩২% আমেরিকান নাগরিক, কিন্তু সমর্থন করেননি ৬৭%। মাত্রএক শতাংশ এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
৩৫ শতাংশের এই বিশাল ব্যবধান ঘুচিয়ে কত জন রিপাবলিকান প্রার্থী, কী ভাবে নিজেদের দিকে ভোট টানতে পারবেন, তা নিয়ে জোর হিসাব-নিকাশ চলছে। একটি জনমত সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন করছেন ৫১.৪%, রিপাবলিকানদের ৪৩.২%। অর্থাৎ দু’দলের মধ্যে ব্যবধান ৮.২%। আর একটি সমীক্ষায় দু’দলের মধ্যে ব্যবধান আরও বেশি— ১০%।
বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা ও নির্বাচনী পূর্বাভাসের ইঙ্গিত, হাউসে ডেমোক্র্যাটেরা পেতে পারেন ২৩৩–২৩৮টি আসন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮-র থেকে অনেকটাই বেশি। সেনেটের হিসাব আরও জটিল। বিভিন্ন সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাট ও তাঁদের সহযোগী নির্দলীয়দের মোট আসন ৫০–৫২টির কাছাকাছি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের ব্যবধান অনেকটাই কম— টেক্সাসে ২.৫%, ওহায়োতে ৩%, আলাস্কায় ৩.৬% এবং মেনে ২.৪%। নির্বাচনে ছবিটা তাই সহজেই উল্টে যেতে পারে, মনে করছেন ভোট বিশ্লেষকেরা। প্রসঙ্গত, এখন পার্লামেন্টের দু’কক্ষই রিপাবলিকানদের দখলে।
তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, জাতীয় ভোটের ব্যবধান সরাসরি কংগ্রেসের আসনসংখ্যায় রূপান্তরিত হয় না। মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও কর্মসংস্থান এই ভোটের প্রধান প্রশ্ন। ট্রাম্পকে নিয়ে এত নেতিবাচকতার মধ্যেও, ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও দেশের অবস্থার কোনও উন্নতি হবে না। একটি জনমত সমীক্ষায় ৪১% ভোটার বলেছেন যে নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে দেশের অবস্থার উন্নতি হবে না, ৩৭% বলেছেন বরং অবনতি হবে এবং ২২% বলেছেন কোনও পার্থক্য হবে না।
এ বার নজরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারেরাও। প্রায় ২১ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান ভোটদানের যোগ্য। একটি জনমত সমীক্ষায় সেনেট নির্বাচনে তাঁদের ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ২২ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন জানিয়েছেন। হাউসে রো খন্না, প্রমীলা জয়পাল, অ্যামি বেরা ও সুহাস সুব্রহ্মণ্যম পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে। ওহায়োর গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতবিবেক রামস্বামী।
ডেমোক্র্যাটদের দিকে আপাতত পাল্লা ভারী থাকলেও স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও ভোটার উপস্থিতি চূড়ান্ত ফল বদলে দিতে পারে। সেই ফলই নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের বাকি দু’বছরে কংগ্রেস কতটা সহযোগী, অথবা কতটা নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হয়ে উঠবে।