হুমকি দিয়েছিলেন চার মাস আগেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে বুধবার নেটোর অন্যতম সদস্য স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় নেটোর শীর্ষবৈঠকের ফাঁকেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে মার্কিন সেনার অভিযান শুরুর পরে পেন্টাগনকে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছিলেন স্পেনের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ়। সে সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, নেটোর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনও প্রতিশ্রুতি মানছে না স্পেন। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছেদ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্য আলোচনা ‘একক সিদ্ধান্ত’ হিসেবেই পরিচালিত হতে হয়। ফলে সরাসরি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইউরোপীয় রাষ্ট্রগোষ্ঠীর উপর পড়বে না। স্পেন জানিয়েছে, বিষয়টিকে তারা ‘আমেরিকার বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবেই দেখছে।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের অভিযোগ নেটোর নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার (২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ) প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয় স্পেন, সে কারণেই মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্টকে ইউরোপের দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। গত মার্চে প্রথম বার এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য স্বাভাবিক ভাবেই চলেছে। কিন্তু বুধবার নেটো মহাসচিব মার্ক রুটেকে ট্রাম্প বলেন, ‘‘স্পেন কোনো কিছুতেই সম্মত হয় না। আপনার তাদের সঙ্গে চলা উচিত নয়।’’ যদিও রুটে জানান, স্পেন গত বছর একটি বড় পদক্ষেপ করেছিল এবং ব্যয় বাড়িয়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে এনেছে। এর পরে ট্রাম্পকে তাঁর ‘পরামর্শ’, ‘‘আপনার উচিত স্পেনের পাশে থাকা।’’ আঙ্কারার শীর্ষবৈঠকে ট্রাম্প বুধবার আর এক নেটো সদস্য ডেনমার্ককেও নিশানা করেন। ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত গ্রিনল্যান্ডের দখল আমেরিকা নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।