সরকারি বাজেটে শিক্ষাখাতে ‘কোপ’, স্কুল-কলেজের বেহাল দশা এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তুকি হ্রাসের প্রতিবাদে আন্দোলনের জেরে বিপর্যস্ত ফ্রান্স। শুক্রবার পশ্চিম ইউরোপের ওই দেশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনার ঘটেছে। হামলা হয়েছে পুলিশের উপর। পাল্টা অভিযানে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ২,০০০-এরও বেশি পড়ুয়াকে।
শিক্ষক কম, শ্রেণিকক্ষ অকুলান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির জরাজীর্ণ ভবন এবং বাজেট বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে চলতি সপ্তাহের গোড়া থেকে ফ্রান্সের ৭০০-রও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা আন্দোলনে নেমেছেন। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে মঁপেলিয়ে, নঁত, মার্সেই, লিল, লিয়ঁ-সহ ফ্রান্সের প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, দাঙ্গা দমন পুলিশবাহিনী নামিয়ে তাঁদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সরকার।
আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু দিন ধরেই পড়ুয়াদের দেওয়া ভাতা এবং ভর্তুকি ছাঁটাই হচ্ছিল, যা নিয়ে ক্ষোভ জমছিল পড়ুয়াদের একাংশে মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স সরকারের ২০২৭ সালের খসড়া বাজেটে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ইউরো সরকারি ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক ভাবে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্কটে পড়বে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরার্ড দারমানিন শুক্রবার বলেন, ‘‘পরিস্থিতি এখন আর শুধু হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সামগ্রিক ভাবে আইনশৃঙ্খলার উপর আঘাত হেনেছে।’’ ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রের দাবি, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের মধ্যে বহিরাগতেরা ঢুকে পড়ে অশান্তি সৃষ্টি করছেন।