ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পরেই দেশ ছাড়লেন সে দেশের রাজনীতিক ফ্লাভিও বলসোনারো। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকায় ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ নিয়েছেন তিনি। ব্রাজ়িলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ়ইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠপুত্র, দক্ষিণপন্থী রাজনীতিক ফ্লাভিও আমেরিকার মায়ামিতে গিয়েছেন বলে খবর।
ব্রাজ়িলের ‘ও গ্লোবো’ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্লাভিওকে মায়ামিতে স্বাগত জানান তাঁরই ভাই এডুয়ার্ডো। বাবা জ়ইল বলসোনারোর সপক্ষে সমর্থন আদায় করতে ট্রাম্পের শরণাপন্ন হয়েছিলেন এডুয়ার্ডো। এই কাজের জন্য গত বছর থেকেই আমেরিকায় রয়েছেন তিনি। চার বছর আগে, ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী প্রার্থী তথা বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভার কাছে হেরে গিয়েছিলেন বলসোনারো সিনিয়রও। পরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে বলসোনারোর ২৭ বছরের জেলের সাজা হয়। সেই সময় বলসোনারো সিনিয়রের পাশে দাঁড়িয়ে লুলা প্রশাসনকে আক্রমণ শানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ব্রাজ়িলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন যে, ফ্লাভিওকে আমেরিকায় যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “হ্যাঁ, আমিই অনুমোদন দিয়েছি। আমার মনে হয় ওঁরা ভাল মানুষ। (ব্রাজ়িলের) নির্বাচনটা খুবই অদ্ভুত। আমার মনে হয় ভয়ঙ্কর।”
ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছেন ব্রাজ়িলের বিজয়ী প্রার্থী তথা প্রেসিডেন্ট লুলা। তিনি বলেন, “যে প্রার্থী দেশ ছেড়ে চলে যান, তিনি নিশ্চয়ই কিছু লুকোতে চাইছেন। ব্রাজ়িল ছাড়ার সিদ্ধান্ত লজ্জাজনক।” প্রসঙ্গত, ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা চলছে ব্রাজ়িলে। বলসোনারো জুনিয়রের দাবি, ভোটে হারার পরেই তাঁকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় ব্রাজ়িলের সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনী ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সাইমন লেভির দাবি, বলসোনারো জুনিয়রকে আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাঁর আরও দাবি যে, লুলা মেক্সিকোর প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের পরামর্শে ব্রাজ়িলে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালাতে চাইছেন। তার ফলশ্রুতিতে ফ্লাভিওকে জেলে যেতে হত বলে দাবি তাঁর।
সোমবার ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল অনেককেই চমকিত করে। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ চালে কিস্তিমাত করে চতুর্থবারের জন্য ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন লুলা। প্রায় ৯৯ শতাংশ গণনা শেষ হওয়ার পর দেখা যায় বামপন্থী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। আর দক্ষিণপন্থী বলসোনারো জুনিয়র পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট। এর আগে ২০০২, ২০০৬ এবং ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন লুলা। চার বছর অন্তর ব্রাজ়িলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে থাকে।