Advertisement
E-Paper

‘বিকট শব্দ’, নেপালের বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বান, ভাসিয়ে দিল ঘরবাড়ি, সেতু! ‌এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ৪

নেপালের গোর্খা জেলার উত্তরে বুড়ি গণ্ডকী নদীর জল বাড়তে শুরু করে। রবিবার ভোরের দিকে ওই নদীতে হড়পা বান আসে। আর তাতেই বিপত্তি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৪
Flooding in the Budhi Gandaki river swept away several houses and bridges in northern Gorkha

নেপালের গোর্খা জেলায় বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বান। ছবি: সংগৃহীত।

আবার নেপালে হরপা বান! বন্যায় ভাসিয়ে দিল বেশ কয়েকটি বাড়ি, সেতু। দ্রুত বাসিন্দাদের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক ভাবে হতাহতের খবর না মিললেও, পরে চার জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের গোর্খা জেলার উত্তরে বুড়ি গণ্ডকী নদীর জল বাড়তে শুরু করে। রবিবার ভোরের দিকে ওই নদীতে হড়পা বান আসে। আর তাতেই বিপত্তি। চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রামকুমার গুরুং জানান, বন্যায় সল্লেরি, পাইয়ুকা এবং জগৎ এলাকার বাড়িঘর নদীগর্ভে ভেসে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দু’টি ঝুলন্ত সেতুও ভেসে যায়। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ভোরে হঠাৎই বন্যা চলে আসে। আমরা আমাদের জিনিসপত্র ঘর থেকে বার করতে পারিনি। জলের তোড়ের শব্দ শুনেই আমারা সব ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যাই।’’

গোর্খার মুখ্য জেলা আধিকারিক ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্রের কথায়, ‘‘প্রাথমিক ভাবে আমরা জানতে পেরেছি সিউরিবাসের উপরে ভূমিধস নামে। তবে গণ্ডকী নদীতে জলস্ফীতির কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।’’ নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণ এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ওড়ানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ বুড়ি গণ্ডকী নদীতে বিকট গর্জনের শব্দ শুনে তীরবর্তী বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় হোটেলগুলি থেকে পর্যটকেরাও দূরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। লোকপা এলাকার বাসিন্দা শেরাপ গুরুংয়ের কথায়, ‘‘অন্ধকারে আমরা শুধু শব্দ শুনেছি। বুঝতে পারছিলাম না ঠিক কী হয়েছে। তবে আমরা সকলে এক মুহূর্ত বাড়িতে থাকা নিরাপদ মনে করিনি। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হল।’’ তার পরেই তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকে চার জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘‘গ্রামবাসীরা ওই নিখোঁজদের খুঁজতে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।’’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জলস্ফীতির পর রবিবার সকালেও বুড়ি গণ্ডকী নদীর জল ওঠানামা করছিল। কখনও কখনও বিপদসীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এলাকায় মাইকিং করে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ২৬ অগস্ট যে হড়পা বান আছড়ে পড়েছিল, তাতে খড়কুটোর মতো ভেসে যায় উত্তর ও মধ্য নেপালের বহু লোকালয়। হিমালয়ের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে চলেছে ভোটেকোশী নদী। সেই নদী বেয়েই নেমে এসেছিল কাদামাটির স্রোত। ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ঘরবাড়ি, গাড়িঘোড়া, রাস্তাঘাট ও সেতু। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এক মাসের বেশি সময় পরেও এখনও অনেকের নিখোঁজ।

বিশেষজ্ঞদে একাংশ মনে করছেন, শনিবার রাতে ধস নেমে গোর্খা জেলার বুড়ি গণ্ডকী নদীতে অস্থায়ী লেক তৈরি হয়। রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ জলের চাপে সেই লেকের পাড় ফেটে হড়পা বান নামে। গোর্খা, ধাদিং, চিতোয়ানের নদী-পাড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Nepal Flash flood

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy