২০২৬ সালের ফিল্ডস্ মেডেল জয়ীদের নাম ঘোষিত হল আমেরিকায়। এ বছর গণিতে বিশ্বসেরাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এক তরুণীও। চার জন বিজেতার মধ্যে চিনের দুই গণিতজ্ঞ রয়েছেন। এ ছাড়া, আমেরিকা এবং কানাডা থেকে দু’জন এই সম্মান জিতেছেন। হারমোনিক অ্যানালিসিস, টপোলজি, সংখ্যাতত্ত্বের মতো অঙ্কের মূল ধারার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিতে অবদানের জন্য তাঁদের পুরস্কৃত হয়েছে।
চিন থেকে ফিল্ডস্ মেডেল জিতেছেন ৩৫ বছর বয়সি তরুণী হং ওয়াং। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে গবেষণা করছেন তিনি। ত্রিমাত্রিক কাকেয়া ধারণার সমাধান এবং হারমোনিক অ্যানালিসিস ও জ্যামিতিক পরিমাপ তত্ত্বে যুগান্তকারী অবদানের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, চিনের আর এক গণিতজ্ঞ ইউ ডেং ফিল্ডস্ মেডেল জিতেছেন। তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত। নন-লিনিয়ার পার্সিয়াল ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশনের (অরৈখিক আংশিক পার্থক্যসূচক সমীকরণ) তত্ত্বে, বিশেষত তরল গতিবিদ্যা এবং বিচ্ছুরণের সমীকরণে মৌলিক অবদানের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সিমপ্লেক্টিক জ্যামিতি, টপোলজি এবং জ্যামিতিক বিশ্লেষণে যুগান্তকারী কিছু কাজের জন্য ফিল্ডস্ মেডেল পেয়েছেন আমেরিকার জন পার্ডন। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্ক নিয়ে কাজ করেন তিনি। বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করেছেন জন। তাই তাঁকে এই সম্মানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ফিল্ডস্ মেডেলের চতুর্থ বিজেতা কানাডার টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিশেষজ্ঞ জেকব সিমেরমান। অ্যারিথমেটিক জ্যামিতি এবং সংখ্যাতত্ত্বে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি সম্মানিত হয়েছেন। বীজগাণিতিক জ্যামিতিতে তাঁর কৌশল প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গণিতের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতি চার বছর অন্তর সেরাদের ফিল্ডস্ মেডেল দেওয়া হয়। অঙ্কের দুনিয়ায় এই পুরস্কার নোবেলের সমান। তবে তরুণ প্রতিভারাই এই সম্মান পেয়ে থাকেন। ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে কাউকে ফিল্ডস্ মেডেল দেওয়া হয় না। কারা এই পুরস্কার পাবেন, তা ঠিক করে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল ইউনিয়ন (আইএমইউ)। অঙ্কের বিভিন্ন শাখায় প্রতিনিধিত্বের বিষয় বিবেচনা করে চার জন (ন্যূনতম দু’জন) গণিতজ্ঞকে পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়। ফিল্ডস্ মেডেলের পুরস্কারমূল্য ১০,৬০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১০.২৬ লক্ষ টাকা)। এ ছাড়া, প্রাচীন গ্রিক গণিতবিদ আর্কিমিডিসের ছবি খোদাই করা একটি সোনার কয়েনও পান বিজেতারা।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান মিহির চক্রবর্তী জানান, প্রত্যেকেই মূলধারার গণিতে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। তবে চার বিজেতার মধ্যে চিনের দু’জনকে দেখে বিস্মিত নন মিহির। তাঁর কথায়, ‘‘যে যে বিষয়ে কাজের জন্য ওঁরা ফিল্ড্স মেডেল পেয়েছেন, সব ক’টিই মূল ধারার গণিতে গুরুত্বপূর্ণ। আর চিনের লোকজন বরাবরই অঙ্কে বিশেষ পারদর্শী। অঙ্কের দুনিয়ায় তাদের এবং ভারতীয়দের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জয়ীদের মধ্যে এক তরুণী রয়েছেন দেখে ভাল লাগছে।’’