Advertisement
E-Paper

হোয়াট্‌সঅ্যাপে একটি গ্রুপ, ৫০০ জন ইঞ্জিনিয়ার! নেপালে সুড়ঙ্গে সুড়ঙ্গে জীবিত মানুষের খোঁজে এখন গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বসনেট জানিয়েছেন, বন্যার কারণে সুড়ঙ্গে আসল পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। সুড়ঙ্গগুলি ভরে গিয়েছে কাদা-মাটিতে। সেখানে উদ্ধারকার্য চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০২
How a WhatsApp group is guiding Nepal’s tunnel rescue

সুড়ঙ্গের মধ্যে চলছে প্রাণের সন্ধান। ছবি: রয়টার্স।

ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে উদ্ধারের পর নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বিপর্যস্ত এলাকায় ছ’টি সুড়ঙ্গ ছিল। তার মধ্যে তিনটি নির্মীয়মাণ। হড়পা বান এবং ধসের কারণে ওই সব সুড়ঙ্গে আটকে পড়েন প্রায় হাজার জন শ্রমিক। সুড়ঙ্গগুলি কাদার স্রোত, পাথর, মাটিতে ভরে গিয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাণের সন্ধান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা। তবে উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার নিয়েছে একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ!

ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় বিপর্যয়ের আগে ওই এলাকায় কর্মরত ইঞ্জিনিয়ারেরা হোয়াট্‌সঅ্যাপে একটি গ্রুপ খোলেন। সেই গ্রুপই এখন উদ্ধারকারী দলের কাছে অন্যতম ‘ত্রাতা’! উদ্ধারকারী দলগুলির কাছে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন হল, সুড়ঙ্গ ঠিক কোথায়? সুড়ঙ্গের মধ্যে কোথায় কী আছে? এখনও ওই গ্রুপ থেকে পাওয়া তথ্যই উদ্ধারকারী দলকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেকাংশেই সাহায্য করছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কী ভাবে ওই হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপটি কারিগরি তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে উদ্ধারকারী দলকে। চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ঠিক কোথায়, তার নকশাই বা কেমন, বিপর্যয়ের পর সেই সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না উদ্ধারকারী দলের। সরকারি এক কর্তা চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি নকশা চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে অবগত এক ইঞ্জিনিয়ার তৎক্ষণাৎ চিলিমের নকশা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ওই হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপে।

সুড়ঙ্গটি ঠিক কোথায়, কেউ যদি ওই সুড়ঙ্গে আটকে থাকেন, তা খুঁজতে কোথায় খনন করে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে উদ্ধারকারী দলকে— এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলেছিল ওই নকশা থেকেই। বিপর্যয়ের পর ওই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির নকশা এবং সেগুলিতে কী ভাবে কাজ হয়— সে সম্পর্কে অভিজ্ঞদের ওই হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য করা হয়। এই সব নকশা বিশেষ করে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের অনেক সাহায্য করেছে বলে দাবি। এখন ওই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৫০০।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বসনেট জানিয়েছেন, বন্যার কারণে সুড়ঙ্গে আসল পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। সুড়ঙ্গগুলি ভরে গিয়েছে কাদা-মাটিতে। ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের মধ্যে পৌঁছোতে উদ্ধারকারী দলের ছ’দিন লেগে গিয়েছিল। সেই সুড়ঙ্গের মধ্যে যেখানে যেখানে মানুষ আটকে থাকতে পারে অনুমান করেছিল উদ্ধারকারী দল, সেখানে অক্সিজেন পাঠানো শুরু হয়। দুর্ঘটনার ন’দিন পর ওই সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছে সেনাবাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার করা শ্রমিকেরা হলেন সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজন। সঞ্জয় ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবীর মেকানিক্যাল সুপারভাইজ়র। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংক্ষেপে
  • ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
  • বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
  • হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
Flash flood Nepal rescue

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy