পরিবেশ দূষণের কারণেই প্রকৃতির রুদ্ররোষের কোপে পড়তে হয়েছে নেপালকে। হিমালয়ে হিমবাহ ভেঙে হড়পা বান এসেছে। ভেসে গিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, লোকালয়। অথচ, দূষণ সেখানে কম। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি কাঠমান্ডুর। তাই স্থায়ী ভাবে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চায় কাঠমান্ডু। এ ক্ষেত্রে মূলত ভারত, চিন এবং আমেরিকার দিকে তারা আঙুল তুলেছিল।
ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের বিপর্যয়ে কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আবার ঘুরে দাঁড়াতে কত ক্ষতিপূরণ লাগতে পারে, তার একটি হিসাব তৈরি করে ফেলেছে নেপালের বলেন্দ্র শাহের সরকার। সে দেশের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, প্রায় ৩৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ছ’মাসের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে হবে দেশটিকে। তার জন্য অবিলম্বে প্রায় ৭৯৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগেল এবং পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধরী রাষ্ট্রপুঞ্জের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা তহবিলের বোর্ডে এই হিসাব জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। উন্নয়নশীল দেশগুলি, বিশেষত যারা পরিবেশ দূষণের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তাদের সাহায্য করার জন্যই রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই তহবিল গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিপর্যয়ের পর নেপালের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক দেশই। ভারত থেকেও গিয়েছে ত্রাণসামগ্রী। কিন্তু ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক অর্থ চায় কাঠমান্ডু। শুধু ভোটেকোশীর বিপর্যয়ে নয়, যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্যই স্থায়ী ভাবে ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্ত করতে চায় তারা। প্রথমে তারা ভারত, চিন এবং আমেরিকার দিকে আঙুল তুললেও পরে সরকারের তরফে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালই প্রাথমিক ভাবে অতিরিক্ত দূষণকারী হিসেবে তিন দেশের নাম করেছিলেন। চিনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট দেশের থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পরিকল্পনা তাঁদের নেই। বরং তাঁরা রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিকাঠামো অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করবেন। এই দাবি নিয়ে সেপ্টেম্বরেই রাষ্ট্রপুঞ্জে যেতে পারে নেপালের প্রতিনিধিদল। তার নেতৃত্বে থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শাহ। নেপালের ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তিনি বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। শুক্রবার পর্যন্ত নেপাল সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, ১২৮৭টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ এখনও ৫৩০০-র বেশি। কাদামাটি ও পাথরের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
- বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
- হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
-
নিজের এক মাসের বেতন একটি পরিবারকে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী! নেপালে নিখোঁজদের পরিজনকে সব রকম সহায়তারও আশ্বাস
-
চিনে নিরাপদ শিবিরে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকেরা? নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ ৩৭ জনের সন্ধানে নবান্নের দ্বারস্থ পরিবার
-
নিখোঁজদের পরিবারকে ডিএনএ নমুনা দিয়ে যেতে বলল কেন্দ্র! গভীর রাতে তিব্বতে ভূমিকম্প, কাঁপল নেপালও
-
হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে খামার, ক্ষতিগ্রস্ত চাষজমি, সব হারিয়ে দিশাহারা নেপালের কৃষকেরা
-
নেপালের হড়পা বানে অনিশ্চিত চিনের স্বপ্নের প্রকল্প, রেলপথে নেপাল এবং তিব্বতকে আর জোড়া যাবে কি? সংশয়ে বেজিং