Advertisement
E-Paper

রক্তাক্ত হয়েও সব শক্তি দিয়ে আটকান সহ-পাইলটকে! ৯/১১ ধাঁচের হামলা রুখে দিল ক্যাপ্টেন স্মিতের কোন দু’টি সিদ্ধান্ত?

মুম্বইয়ের ঘাটকোপরে স্মিতের পরিবারের প্রতিবেশী তথা চিকিৎসক জিনিৎ শাহ জানিয়েছেন, স্মিত অভিজ্ঞ পাইলট এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:২৭
ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীদের বাঁচিয়ে ‘নায়ক’ ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর (ইনসেটে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীদের বাঁচিয়ে ‘নায়ক’ ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর (ইনসেটে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শরীরে একের পর এক কোপ বসিয়েছিলেন সহ-পাইলট। কিন্তু নিজের পুরো শক্তি দিয়ে লড়ে গিয়েছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। কিন্তু সেই রক্তাক্ত মুহূর্তে স্মিতের দ্রুত দু’টি সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মুম্বইয়ের ঘাটকোপরে স্মিতের পরিবারের প্রতিবেশী তথা চিকিৎসক জিনিৎ শাহ জানিয়েছেন, স্মিত অভিজ্ঞ পাইলট এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত কী ভাবে নিতে হয়, সেটা ভাল ভাবে জানে।

ওই প্রতিবেশীর কথায়, ‘‘পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেয় স্মিত। নিজের একটি অ্যাকাডেমিও রয়েছে। আর সে কারণেই ও ভাল ভাবে জানে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কী করণীয়। স্মিতের এই ক্ষমতার জন্যই কিন্তু বিমানযাত্রীদের প্রাণ বাঁচল।’’ ছুরিকাহত হয়েও যাত্রীদের বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন স্মিত। এমনটাই মনে করছেন ওই প্রতিবেশী। ঠিক কোন কারণে সহ-পাইলট ভারতীয় পাইলটের উপর হামলা চালিয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিমান সংস্থাও এ নিয়ে এখনও চুপ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-র তরফেও এ বিষয়ে কোনও কিছু বলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে ঠিকই, কিন্তু জোর জল্পনা চলছে ককপিটের ভিতরে কী এমন হয়েছিল যে তা রক্তারক্তির পর্যায়ে পৌঁছে যায়?

টাইমস অফ ইজ়রায়েল-এর প্রতিবেদন বলছে, ককপিটের ভিতরে যখন মারপিট চলছে, সহ-পাইলট যখন পাইলটের উপর হামলা চালিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের দখলে নেওয়ায় মরিয়া, সেই সময় প্রথমে ককপিট থেকে ৭৭০০ এবং তার পর ৭৫০০ স্কোয়াক কোড পাঠানো হয়। এই কোড আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য ব্যবহার করেন পাইলট। বিমান অপহরণের মতো ঘটনা ঘটলে বা অবৈধ ভাবে বিমান দখলদারির মতো কোন ঘটনার ক্ষেত্রে পাঠানো হয় ওই বার্তা। ফলে প্রথমে চাউর হয়ে যায় তেল আভিভগামী বিমান অপহৃত হয়েছে। কিন্তু তখনও জানা যায়নি আসলে বিমান থেকে কেন ওই ধরনের সঙ্কেত পাঠানো হল। ৭৫০০ সংকেত পাওয়ার পর ইজ়রায়েলি বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানও বিমানটির দিকে রওনা হয়েছিল। কিন্তু সময় গড়াতেই আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। যা আরও ভয়ঙ্কর। তবে বিমানের পাইলট স্মিতের দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে ভয়ানক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দু’ধরনের কোড পাঠিয়ে এটিসি-কে সতর্ক করা যেমন একটা বড় পদক্ষেপ ছিল, ঠিক তেমনই সহ-পাইলটের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে ছুরিকাহত হয়েও স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেন। আর এই সিদ্ধান্তটাই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে গিয়েও হাল ছাড়েননি। ওই অবস্থাতেই নিজের পুরো শক্তি কাজে লাগিয়ে ককপিটের দরজা খোলেন। তখনই তাঁকে দেখতে পান যাত্রীরা। স্মিত ‘হেল্প হেল্প’ বলে চিৎকার করেন। ওই অবস্থায় এর পর কয়েক জন যাত্রী ও ক্রু ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। তার পর ককপিটে থেকে টেনে বাইরে বার করে নিয়ে আসেন। স্মিতের এই দুই পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের বিমান-দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Dubai

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy