ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে কি ক্রমেই দূরত্ব তৈরি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের! নেপথ্যে কি আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত এবং সমঝোতা? পেজ়েশকিয়ানের একটি মন্তব্য সেই জল্পনায় ঘি ঢেলেছে। তাঁর দাবি, মোজতবার সঙ্গে যোগাযোগ করা এখন ‘খুব কঠিন’। আর তার পরেই বেড়েছে জল্পনা।
আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে বসলেও মোজতবাকে প্রকাশ্যে কখনও দেখা যায়নি। এমনকি, বাবার শেষকৃত্যেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা বহু দিনের। আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যে হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল, তাতে আহত হয়েছিলেন মোজতবাও। বার বার প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কি আর বেঁচে নেই? সেই আবহে ইজ়রায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মতানৈক্য বাড়ছে।
সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব কঠিন। তবে তাঁর উপস্থিতি আমাদের শক্তি জোগায়, যাতে আমরা চালিয়ে যেতে পারি (প্রত্যাঘাত)।’’ তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ইরানের প্রত্যাঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মোজতবার।
আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সংঘাত চলছে। সেই আবহেও প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা। কোনও নির্দেশ দিতে তাঁকে শোনাও যায়নি। তাঁর সুস্থতা নিয়ে যেমন সংশয় তৈরি হয়েছে, তেমন ইরানের বাকি প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত, পেজ়েশকিয়ান। তবে ইরানের তরফে স্বাভাবিক ভাবেই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। পাল্টা পেজ়েশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে তাঁর। মোজতবা বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ‘দৃঢ় যুক্তি’ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু খারাপ মানুষ তাঁকে অন্য ভাবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর ভিন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।’’
ইজ়রায়েলের এক টিভি চ্যানেলের সূত্র বলছে, পেজ়েশকিয়ান রাখঢাকের যতই চেষ্টা করুন, আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত এবং সমঝোতা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোজতবার মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। কিছু বিষয়ে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ভাহিদিকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ইজ়রায়েলের চ্যানেল ১৪-এর সূত্র বলছে, ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশনীতির বিষয়ে তাঁকে ‘কোণঠাসা করা হচ্ছে’। গত মে মাসে তিনি ইস্তফাও দিতে চেয়েছিলেন। সূত্রের খবর, মোজতবা না কি সেই বিষয়ে আমল দেননি। তাঁকে বিরত করারও চেষ্টা করেননি। উল্টে ইরানের সামরিক বাহিনীকেই সমর্থন জানিয়েছেন।