ইরানের পরিণতিও ভেনেজ়ুয়েলায় মতো হোক, সেই চেষ্টাতেই নাকি ছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান সরকার এবং দেশের মানুষের সার্বিক প্রচেষ্টা তাঁর পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়েছে। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের টানা আক্রমণের জবাবও যে তেহরান দৃঢ়তার সঙ্গে দিতে পেরেছে, আজ বিশ্বের আঙিনায় তা দৃষ্টান্ত-স্বরূপ! আজ ইরানের ‘সরকারি সপ্তাহ’ (গভর্নমেন্ট উইক) উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।
কঠিন সময়ে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইরানের মানুষকে ধন্যবাদও দেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা (আমেরিকা) ইরানের অবস্থা ভেনেজ়ুয়েলার মতো করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরানের প্রতিরোধ, সংহতি ও ঐক্য সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।’’ তবে আমেরিকার তরফে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বহর যে তেহরানকে নিত্যদিন নানা ‘চ্যালেঞ্জ’-এর মুখে ফেলছে, সে কথাও মেনে নিয়েছেন পেজ়েশকিয়ান। তাঁর ভাষায়, ‘‘...অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব এগুলো প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি।’’ এ দিকে, আজই ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে হরমুজ় প্রণালীকে আমেরিকার ‘নয়া ভূখণ্ড’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যার বিরোধিতা করেছে তেহরান।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তি আলোচনায় গতি আনতে আগামিকালই তেহরান পৌঁছচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ইরান যুদ্ধকে ঘিরে ফের পশ্চিম এশিয়া উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। এমন পরিস্থিতিতে পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁরা।
গত ৭ অগস্ট সৌদি আরবের মক্কা শহরে এক বিশেষ সামরিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছিল সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। যার পোশাকি নাম রাখা হয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’। সেই সমঝোতা অনুসারে এই তিন দেশের উপর কোনও শত্রু দেশ আক্রমণ চালালে, সেই হামলাকে তিনটি দেশের উপর সামগ্রিক আক্রমণ বলেই বিবেচিত হবে। এই সমঝোতায় অংশীদার হওয়ার জন্য ইরানের কাছেও আবেদন জানানো হয়। প্রস্তাবটি আপাতত বিবেচনার পর্যায়ে রেখেছে তেহরান। লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজ সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন ইরানি পার্লামেন্টের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘খানেহ মেলাত’-এর প্রধান মেহদি রাহিমি।
হরমুজ়কে আমেরিকার ‘নয়া ভূখণ্ড’ বলায় ট্রাম্পকে আজ এক হাত নিয়েছেন ইরানের ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিয়োরিটি কাউন্সিল’এর অন্যতম শীর্ষ কর্তা মোহসেন রেজ়াই। তাঁর কথায়, ‘‘হরমুজ় প্রণালী খুলতে আমেরিকার ব্যর্থতা এবং সেটিকে নিজের বলে দাবি করার মধ্যেযে ফারাক, তা ওয়াশিংটন আর হরমুজ়ের দূরত্ব ১১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।’’