Advertisement
E-Paper

‘আমরা বহুদিনের বন্ধু’! দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে জোর তেহরানের, ব্রিক্‌স-বৈঠকের আগে চাবাহার বন্দরের দিকেও নজর ইরানের

দিল্লি এবং তেহরান যৌথ ভাবে ইরানের চাবাহার বন্দর গড়ার কাজ শুরু করেছিল। গত কয়েক বছর ধরে এই বন্দর প্রকল্পে অর্থবরাদ্দ করে আসছিল ভারত। তবে এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহারের জন্য কোনও অর্থবরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৯
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। — ফাইল চিত্র।

এক সপ্তাহ আগেই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হল দু’জনের। সামনেই দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলন রয়েছে। সেখানে ফের মুখোমুখি হতে পারেন দুই রাষ্ট্রনেতা। তার আগে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরল ইরান। বিশেষ ভাবে জোর দিল চাবাহার বন্দরের উপরেও।

আগামী ১১-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিক্‌সের রাষ্ট্রনেতাদের সম্মেলন বসছে। আন্তর্জাতিক এই গোষ্ঠীর সদস্য ইরানও। ওই সম্মেলনের আগে সোমবার দিল্লি-তেহরান বন্ধুত্ব নিয়ে মন্তব্য করলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘেই। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। এই সম্পর্কের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে সমাজব্যবস্থায় এবং ইতিহাসে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিই।” এ প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভাল এবং তা ক্রমে আরও ভাল হচ্ছে।”

দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক বোঝাতে মোদী-পেজ়েশকিয়ানের সাম্প্রতিক বৈঠকের কথাও তুলে ধরে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক। গত ৩১ অগস্ট কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে ‘সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ (এসসিও)-এর রাষ্ট্রনেতাদের সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে মুখোমুখি বসেন দু’দেশের প্রধান। সে কথা উল্লেখ করে তেহরান বলে, “এসসিও এবং ব্রিকস—উভয়েরই সদস্য ভারত। পাশাপাশি যে সব দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক রয়েছে, তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম।”

কথাপ্রসঙ্গে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করে তেহরান। তাদের বক্তব্য, দিল্লির সঙ্গে বৈঠকের সময়ে সাধারণত যে বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসে, তার মধ্যে চাবাহার অন্যতম। তেহরানের কথায়, “এটি (চাবাহার) দুই দেশের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তারা এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় ইরান। এর জন্য ব্রিক্‌স সম্মেলনের সুযোগটিও কাজে লাগাতে চায় তারা।

ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত করতে দিল্লি ও তেহরান চাবাহার বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনায় সহযোগিতা শুরু করেছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে চাবাহারের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬-২৭-এ নতুন করে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। সংসদে বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া উত্তরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অগস্টে শেষ কিস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছিল এবং মূল চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ১২ কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক দায় ইতিমধ্যেই পূরণ হয়েছে। তাই ২০২৬-২৭-এ নতুন বরাদ্দের প্রয়োজন হয়নি। সম্প্রতি ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বাণিজ্যে যুক্ত থাকার অভিযোগে চার ভারতীয় সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

Iran India Iran Relations

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy