ইজ়রায়েলে প্রধানমন্ত্রীর গদি ধরে রাখতে পারবেন কি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু? না কি ছিনিয়ে নেবেন গাদি আইজ়েনকট? তিনিই এ বারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও বুথফেরত সমীক্ষা এবং ভোটের ফলাফলের প্রাথমিক প্রবণতা প্রকাশ আসার পর অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, নেতানিয়াহু বা আইজ়েনকট— কারও উপরই একক ভাবে ভরসা রাখেননি ইজ়রায়েলের জনগণ। যদিও ফলাফল স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগবে বলেই মত। ভোটে এই ‘অচলবস্থা’ কাটাতে কি মুখ্য ভূমিকা নেবে, এত দিন ইজ়রায়েলি রাজনীতিতে ‘ব্রাত্য’ বা ‘অচ্ছুত’ হয়ে থাকা আরব দলগুলি?
ভোটগ্রহণপর্ব মিটেছে মঙ্গলবার। বুধবার সকাল (স্থানীয় সময়) থেকে ভোটগণনা চলছে ইজ়রায়েলে। ১৯৯৯ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে ইজ়রায়েলে। ইজ়রায়েলে ক্রমবর্ধমান আরব গোষ্ঠীর কারণেই ভোটদানের এই প্রবণতা বলে মত অনেকের। ‘টাইমস অফ ইজ়রায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৭০ শতাংশের বেশি ভোটগণনা সম্পন্ন হয়েছে। আর তাতে দেখা যাচ্ছে বিরোধীদের থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট। তবে জাদুসংখ্যা ছুঁতে পারেনি তারা।
ভোটের ফলাফলের যা ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির জোট এগিয়ে রয়েছে ৫৪ আসনে। খুব একটা পিছিয়ে নেই আইজ়েনকটের ‘ইয়াশার’ দলের জোটও। আইজ়েনকট জোট এগিয়ে রয়েছে ৪৯ আসনে। আরব দলগুলি এগিয়ে রয়েছে ১৭ আসনে। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। শেষ হাসি কে হাসবেন, তা স্পষ্ট হতে বৃহস্পতিবার গড়িয়ে যেতে পারে বলে মত সংবাদসংস্থা রয়টার্সের।
প্রধানমন্ত্রীর গদিতে নেতানিয়াহু থাকবেন কি না, তা নিয়ে ইজ়রায়েলের প্রায় সব জনমত সমীক্ষাই দেখিয়েছিল, তাঁর নিরঙ্কুশ জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজ়েনকট! ইজ়রায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থার নির্বাচন পদ্ধতি অন্য রকম। এখানে ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’। আর তাই প্রার্থী নন, পছন্দমাফিক দলকে ভোট দিয়ে থাকে ইজ়রায়েলের আমজনতা। তেল আভিভের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এর মোট আসন সংখ্যা ১২০, যার জেরে ৬১ হল সরকার গঠনের ‘জাদুসংখ্যা’।
ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, আরব জোটের ১৮ জন ‘নেসেট’-এ আসন পেতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কোনও একক জোট যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে সরকার গঠনে বড় ভূমিকা নিতে পারে আরব জোট। যদি কোনও দল জাদুসংখ্যা ছুঁতে না-পারে তবে ভোটগণনার পর জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ার শুরুতে ইজ়রায়েলের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইতিবাচক আলোচনার পর যে জোট নেতার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে অবশ্যই তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
জোট গঠনের জন্য ওই নেতা ২৮ দিন সময় পান। প্রয়োজনে আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ওই নেতা। তবে ওই সময়ের মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হলে অন্য এক জন নেতাকে বেছে নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। যদি তিনিও জোট গঠনে ব্যর্থ হন তবে ‘নেসেট’-এর সদস্যেরা তৃতীয় নেতা বাছার জন্য আবেদন করতে পারেন প্রেসিডেন্টের কাছে। আর সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হতে পারে ইজ়রায়েলে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইজ়রায়েলে পাঁচ বার আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচন হয়। প্রতি বারই জোটের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ৩২টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু বেশ কয়েকটি কট্টর ডানপন্থী দলের সঙ্গে জোট গঠন করেন, যার ফলে তিনি ও তাঁর মিত্রেরা মোট ৬৪টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। এ বারের নির্বাচন সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পরীক্ষায় বসেছেন নেতানিয়াহু।