অগ্ন্যুৎপাতের জেরে ইন্দোনেশিয়ায় সোমবারও বাতিল হল বহু বিমান। শুক্রবার থেকে একাধিক বার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউয়ে। সেই আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই আকাশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে ছড়িয়ে পড়েছে। তার জেরে সোমবারও বিঘ্নিত বিমান পরিষেবা। রাজধানী জাকার্তার দুই প্রধান বিমানবন্দর-সহ ইন্দোনেশিয়ার মোট আটটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সোমবার ১,৫৫০টিরও বেশি বিমান বাতিল করতে হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার যাত্রী।
জাভা এবং সুমাত্রার মাঝে সুন্দা প্রণালীর মাঝে রয়েছে আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি। শুক্রবার থেকেই এটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রবিবারও তিন দফায় অগ্ন্যুৎপাত হয় এই আগ্নেয়গিরি থেকে। প্রথমে রবিবার ভোরে প্রায় ৩০ সেকেন্ডের। তার তিন ঘণ্টা পরে ফের অগ্ন্যুৎপাত হয়। রাতের দিকে ফের এক দফা লাভা বেরিয়ে আসে আগ্নেয়গিরি থেকে। পর পর এই অগ্ন্যুৎপাতগুলিতে কারও হতাহতের খবর নেই। স্থানীয় প্রশাসন কাউকে এলাকা খালি করা নির্দেশও দেয়নি। তবে সাধারণ জনতাকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে থাকার জন্য বলা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হল জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা। রবিবার ওই বিমানবন্দর থেকে ২০৯টি উড়ান বাতিল করা হয়েছিল। সোমবারও সকাল থেকেও বন্ধ রয়েছে বিমানবন্দরটি। পাশাপাশি জাকার্তার হালিম পেরদানাকুসুমা বিমানবন্দর-সহ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের আরও ছয় বিমানবন্দরেও বন্ধ ছিল এ দিন সকালে। প্রথমে জানানো হয়েছিল, এই আটটি বিমানবন্দরেই সোমবার সকাল ৯টা (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত উড়ান ওঠানামা বন্ধ থাকবে। পরে সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেটি বন্ধ রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে সোমবার ১,৫৫০ বিমান বাতিল করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স জানাচ্ছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গত দু’দিনে তারা সিঙ্গাপুর এবং জাকার্তার মাঝে ১০টি বিমান বাতিল করেছে।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে, তা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না স্থানীয় কর্তৃপক্ষও। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগন্ধি রয়টার্সকে বলেন, “পরিস্থিতি বার বার বদলাচ্ছে। ঘন ঘন আবহাওয়া বদলানোর ফলে গোটা বিষয়টি কখন থামবে, তা আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছি না।”
উপগ্রহচিত্রের সাহায্যে আগ্নেয়গিরি-সৃষ্ট দু’টো ছাই-মেঘ চিহ্নিত করা গিয়েছে। তার মধ্যে একটি ছাই-মেঘ জাকার্তা, বানতেন এবং পশ্চিম জাভার আকাশে ২০ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে বইছে। অন্যটি ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়ছে বানতেন, লাম্পুং ও বেংকুলু প্রদেশ, দক্ষিণ সুন্দা প্রণালী এবং সুমাত্রার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের একাংশের উপরে।