সৌদি আরবে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। অন্য দিকে আমেরিকা-ইরান সংঘাতও ফের বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দু’পক্ষই বৃহত্তর সংঘাতের পথে এগোনোর পরিকল্পনা করছে বলে খবর। এ অবস্থায় সোমবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ‘ইসলামি নেটো’। তেহরানের ওই বৈঠকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি (যা ইসলামি নেটো নামেও পরিচিত) স্বাক্ষরকারী তিন দেশ— সৌদি, পাকিস্তান এবং তুরস্কের প্রতিনিধিরা থাকবেন। ইসলামাবাদের তরফে বৈঠকে থাকবেন পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির। এ ছাড়া তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সলমন।
সৌদির উপর হুথি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থন রয়েছে। তাদের মধ্যে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী অন্যতম। সৌদির বিভিন্ন বিমানবন্দর, তৈল শোধনাগার-সহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হুথির একের পর এক হামলার মাঝেই ইরানে এই বৈঠক বসছে। গত অগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— এই ত্রিদেশীয় জোটের কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে তা সকলের উপর হামলা বলে গণ্য হবে। প্রাথমিক ভাবে খবর, সোমবারের বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে আমেরিকা-ইরান পরিস্থিতি। তবে সৌদি-হুথি সংঘাতও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তান এবং কাতারের দৌত্যে গত জুনে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু তা বেশি দিন টেকেনি। সমঝোতার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেস্তে যায়। দু’পক্ষই একে অন্যের উপর আক্রমণ এবং প্রতিআক্রমণ শুরু করে। তার পর থেকে গত কয়েক মাস ধরে ফের মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। রবিবারও তেহরানে ইরানি আধিকারিকেদের সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠক করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। গত সপ্তাহে পাক সেনা সর্বাধিনায়ক মুনিরও তেহরান থেকে ঘুরে যান। তখন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। সূত্রের দাবি, মুনিরের ওই সফরের সময়েই এ দিনের বৈঠকের বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ শুরু হয়। তবে ইরান তখনই স্পষ্ট করে দিয়েছিল, তাদের দাবি পূরণ না-হওয়া পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনায় আগ্রহী নয় তেহরান।
আরও পড়ুন:
এ দিনের বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কিছু জানানো হয়নি। তবে সৌদির পাবলিক ডিপ্লোমেসি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রায়দ ক্রিমলি জানান, কাতার এবং পাকিস্তান যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে তাতে সাহায্য করাই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কূটনৈতিক সমাধান খোঁজারও চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।