Advertisement
E-Paper

‘ভারত বা পাকিস্তানকে জিজ্ঞেস করুন, উত্তর একই’! রাষ্ট্রপুঞ্জে গিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ফাঁক চেনালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

৩৬ বছর বয়সি বলেন্দ্র এ বছরের কনিষ্ঠতম রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি রাষ্ট্রপুঞ্জে বক্তৃতা করলেন। ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বান বিপর্যয়ের পর নেপালের সমস্যার কথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০২
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ রাষ্ট্রপুঞ্জে দেশের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ রাষ্ট্রপুঞ্জে দেশের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।

নেপালের ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বান বিপর্যয়ের পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ঠিক করেছিলেন, তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জে যাবেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নেপালের সমস্যার কথা তুলে ধরবেন। তা করতে গিয়ে ভারত, পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের কথাও টানলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ‘গলদ’ দেখালেন চোখে আঙুল দিয়ে।

আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ৮১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাতে নেপালের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সেখানেই তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ছোট, উন্নয়নশীল দেশগুলির সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অভিযোগ, যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র নিমেষে সীমান্ত পার করে ফেলে, কিন্তু পেট চালানোর জ্বালানি কিংবা কৃষকের সার সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় আসে না। তাঁর কথায়, ‘‘ক্ষেপণাস্ত্র ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছোয়। রাইফেল, গোলাবারুদ সমস্ত বাধা কাটিয়ে অনায়াসে সীমান্ত পেরিয়ে যায়। কিন্তু নেপালের একজন সাধারণ কৃষক প্রয়োজনের সময় বাজারদরে সার বা জ্বালানিটুকু পান না। আমরা এমন এক পৃথিবী গড়ে তুলেছি, যেখানে যুদ্ধের জন্য নিখুঁত সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু খাদ্যের জন্য নেই।’’

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই প্রতিবেশী উন্নয়নশীল দেশগুলির কথা টানেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এটা নেপালের নিজস্ব কোনও সমস্যা বা দুর্ভাগ্য নয়। বাংলাদেশকে জিজ্ঞেস করুন, ভুটানকে জিজ্ঞেস করুন। ভারত, মলদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে জিজ্ঞেস করুন। এই অঞ্চলের যে কোনও দেশকে প্রশ্ন করলেই এক উত্তর পাবেন। যে পরিবেশকে আমরা উত্তপ্ত করিনি, তার রোষ আমাদের উপর পড়ছে, যে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি, তার ফল আমাদের ভুগতে হচ্ছে। এখান থেকেই বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অনেক গলদ আছে।’’

প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ভারত, চিন এবং নেপালকে নিয়ে একটি ‘হিমালয় জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা’ তৈরি করার প্রস্তাব রাষ্ট্রপুঞ্জে দিয়েছেন বলেন্দ্র। বলেছেন, ‘‘হিন্দুকুশ হিমালয়ের অববাহিকা অঞ্চলে ২০০ কোটি মানুষের বাস। এটা পৃথিবীর প্রান্তিক কোনও বিষয় নয়। বরং অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই কারণেই নেপাল, ভারত ও চিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটা ‘হিমালয় জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা প্রয়োজন।’’ বলেন্দ্র জানান, এর মাধ্যমে দেশগুলি পরস্পরের সঙ্গে উপগ্রহচিত্র, তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ ভাগ করে নিতে পারবে। তাতে ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলা করতে সুবিধা হবে।

৩৬ বছর বয়সি বলেন্দ্র এ বছরের কনিষ্ঠতম রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি রাষ্ট্রপুঞ্জে বক্তৃতা করলেন। হড়পা বানে নেপালে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ আরও কয়েক হাজার। কঠিন সময়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে পাশে থাকার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।

United Nations Nepal Balendra Shah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy