Advertisement
E-Paper

ককপিটে ‘হাইজ্যাকের’ চেষ্টা, বিমান পুরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে! ঠিক কী ঘটেছিল মাঝ-আকাশে? নামার পর বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীর

ককপিটে গোলমালের পর দুবাইয়ের ওই বিমান এক ধাক্কায় ১৭ হাজার ফুট নেমে গিয়েছিল। যাত্রীদের মধ্যে কয়েক জন পাইলট ছিলেন বলে এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। কোনও রকমে তাঁরা হামলাকারীকে ধরে ফেলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:০৬
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে রক্তাক্ত পাইলট, যাত্রীরা।

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে রক্তাক্ত পাইলট, যাত্রীরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই শহর থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাই সংস্থার বিমানটি। ছিলেন অন্তত ১৮০ জন। কিন্তু ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে আচমকা তার ককপিটে গোলমাল শুরু হয়। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই পাইলট। অভিযোগ, একজন অপরজনকে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারেন। বিমান ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। যাত্রীদের দাবি, বিমানটি ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেও ব্যাখ্যা করছেন কেউ কেউ। যাত্রীরা সকলে সুরক্ষিত রয়েছেন।

ককপিটে গোলমালের পর দুবাইয়ের ওই বিমান এক ধাক্কায় ১৭ হাজার ফুট নেমে গিয়েছিল। যাত্রীদের মধ্যে কয়েক জন পাইলট ছিলেন বলে এ যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। কোনও রকমে তাঁরা হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং বিমানটিকে বাঁচান। তা সৌদি আরবে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করানো হয়। আপাতত দুই পাইলটই এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মাঝ-আকাশে বিমানটি একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। যে কোনও মুহূর্তে তা ভেঙে পড়বে মনে হচ্ছিল। রক্তে ভেসে গিয়েছিল ককপিট।

প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা যাত্রীর কথায়, ‘‘বিমানের মধ্যে আমরা চিৎকার শুনতে পাই। যখন ককপিট খোলা হল, দেখি রক্তে ভেসে যাচ্ছে জায়গাটা। মনে হচ্ছিল, এখনই বিমান ভেঙে পড়বে। কিন্তু যাত্রীদের মধ্যে থেকে কয়েক জন পাইলট উঠে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন।’’ ওই মহিলার দাবি, তাঁর পাশে যিনি বসেছিলেন, তিনি শৌচাগার থেকে ফেরার পথে বুঝতে পারেন, কিছু গোলমাল হয়েছে। ককপিটে দুই পাইলটকে লড়াই করতে দেখে ফেলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে বাকি যাত্রীদের সতর্ক করেন। মহিলার কথায়, ‘‘কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাদের বিমান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মনে হচ্ছিল, এটাই শেষ। এখনই বিমান ভেঙে পড়বে। আমরা সকলে প্রার্থনা করতে শুরু করেছিলাম।’’

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

যাত্রীদের একাংশই ককপিটে ঢুকে আক্রান্ত পাইলটকে উদ্ধার করেন এবং হামলাকারীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিমানের এক যাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যামেরার সামনে বলছেন, ‘‘বিমান হাইজ্যাকিং হচ্ছিল। আমরা সেখানে ছিলাম। জঙ্গিদের আমরা কাবু করে ফেলেছি। এ বার বিমান অবতরণের চেষ্টা চলছে। আমার কথা যদি কেউ শুনতে পান, আমাদের সাহায্য দরকার। সাহায্য করুন!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা তাবুকে নামছি, সম্ভবত সৌদি আরবে। এই এলাকা আমাদের কাছে অপরিচিত। বিমানে পাইলট ছাড়া সকলে নিরাপদ, সুস্থ রয়েছেন।’’ ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

আর এক মহিলা যাত্রী সৌদির বিমানবন্দরে নামার পর জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী বিমানের ভিতর হামলাকারী জঙ্গিকে নিরস্ত্র করতে সাহায্য করেছেন। মেইতাল নামের ওই মহিলার কথায়, ‘‘হঠাৎ কেউ ‘স্ট্যাবিং’ (কোপ) বলে চিৎকার করে ওঠেন। আমার স্বামী বুঝতে পেরেছিলেন, কী ঘটছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সামনের দিকে ছুটে যান। অন্যদের সঙ্গে মিলে তিনি আক্রমণকারীকে নিরস্ত্র করেন। কোপ মারা হয়েছিল। অনেক রক্ত ছিল ককপিটে।’’

কয়েকটি রিপোর্টে দাবি, বিমানের সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেছিলেন। ছুরির আঘাতে ক্যাপ্টেনকে জখম করে তিনি বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টা করছিলেন। অভিযুক্ত ওমানের নাগরিক এবং ওই বিমান সংস্থার দীর্ঘদিনের কর্মী। কী কারণে এই হামলা, নেপথ্যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কোনও যোগ আছে কি না, এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার পর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী অন্য একটি বিমান দুবাই ফিরে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে তার কোনও কারণ জানানো হয়নি।

plane hijack Dubai israel UAE tel aviv

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy