Advertisement
E-Paper

পাকিস্তানের পেশোয়ারে ক্লাস চলাকালীন ধসে পড়ল স্কুলের ছাদ! ৩২ শিশু-সহ মৃত এক শিক্ষক, আহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ছাদ ভেঙে ৩২ জন পড়ুয়া এবং এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। মোট আহত ২০জন। ঘন্টা পাঁচেক পর শেষ হয় উদ্ধারকাজ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৫০
আল খায়ের স্কুলে উদ্ধারকাজে এলাকাবাসী ও উদ্ধারকর্মীরা।

আল খায়ের স্কুলে উদ্ধারকাজে এলাকাবাসী ও উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স।

পাকিস্তানের পেশোয়ারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন আচমকাই ছাদ ভেঙে পড়ে ৩২ জন পড়ুয়া এবং এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মহম্মদ আসিম জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা ৩৩। মোট ২০ জন আহত শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগকেই ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাথায় গুরুতর চোট পাওয়া ৩ শিশু এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা ।

ঘটনাটি ঘটে পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘আল খায়ের স্কুলে’। পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজ়ির জানান, ঘটনার সময় পড়ুয়ারা ক্লাসরুমেই ছিল। ‘রেসকিউ ১১২১’-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফৈজ়ি জানিয়েছেন, “উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। উদ্ধারকারী দল সমস্ত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলেছে এবং ঘটনাস্থলে আর কেউ আটকে নেই।” উদ্ধারকাজে গতি আনতে এবং অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলের সুবিধার জন্য ট্র্যাফিক পুলিশকে ‘গ্রিন করিডর’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আতঙ্কিত অভিভাবকেরা। সামিউল্লাহ নামে এক অভিভাবক জানান, তিনি নিজে আট বছরের কম বয়সি তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করেছেন। তাঁর কথায়, “সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে আমি ১০ মিনিটের মধ্যে ছুটে আসি। আমাদের পরিবারের ছয় শিশু এই স্কুলে পড়ে। ভেঙে পড়া দোতলার নীচে একতলার ক্লাসরুমেই ছিল আমার ছেলে। ভবনটার অবস্থা দেখে ভেবেছিলাম সে-ও হয়তো মারা গিয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পারি, ঠিক ওই সময়েই জল খেতে যাওয়ার কারণে সে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে।”

এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তাঁরা মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি উঠেছে। ঘটনায় স্কুলের মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পাকিস্তানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং সুরক্ষাবিধির অভাবে বাড়ি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অতীতে দেশটিতে এমন একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসেই উমরকোট ও লাহৌরে স্কুলভবনের একাংশ ভেঙে অন্তত চার শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগে জুন মাসে লাহৌরে একটি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ জন এবং দেরা গাজ়ি খানে অন্য একটি স্কুলের ছাদ ভেঙে চার পড়ুয়ার প্রাণ যায়। এ ছাড়াও গত কয়েক মাসে প্রবল বৃষ্টি ও দুর্বল পরিকাঠামোর জেরে পাকিস্তানের পাকপতন, গুজরাট ও ইসলামাবাদেও ছাদ ধসে একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

Pakistan Roof Collapse Rescue Operation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy