ফ্লরিডায় বিমান দুর্ঘটনায় ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (স্থানীয় সময়) একটি ছোট আকারের বাণিজ্যিক জেট দক্ষিণ ফ্লরিডার উপর দিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। মাঝ-আকাশে আচমকা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পাইলট শেষ মুহূর্তে বিপদবার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ৩৫ হাজার ফুট থেকে খাড়া ভাবে নীচের দিকে নামতে নামতে প্রচণ্ড গতিতে মুখ থুবড়ে পড়ে বিমানটি। রাস্তার ধারে আছাড় খেয়ে বিস্ফোরণ ঘটে তাতে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আগুনের গোলায় পরিণত হয়।
আমেরিকার পরিবহণ সচিব সিন ডাফি সমাজমাধ্যমে ফ্লরিডার বিমান দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন, লিয়ারজেট ৬০ বিমানটি দক্ষিণ ফ্লরিডার পাম বিচ কাউন্টির উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বেলা ১২টা ৫০ মিনিট (স্থানীয় সময়) নাগাদ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পাইলট-সহ বিমানে মোট ন’জন ছিলেন। কাউকে বাঁচানো যায়নি। লোকালয়ের মধ্যে যেখানে বিমানটি আছড়ে পড়েছে, সেখানে রাস্তায় বিশাল গর্ত হয়ে গিয়েছে। ওই স্থান থেকে কয়েক হাত দূরেই বেশ কিছু বসতবাড়ি রয়েছে। অন্য দিকে রাস্তা দিয়ে অবিরাম গাড়ি চলাচল করছে। বিমানটি আর কয়েক হাত আগে বা পরে পড়লেই চলন্ত গাড়ি কিংবা বসতবাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হত। সে ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকত।
আরও পড়ুন:
বিমানটি পড়তে দেখে রাস্তায় গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। তার ভিতর থেকে কয়েক জন দুর্ঘটনার মুহূর্তের ভিডিয়ো করেছিলেন। তাতে দেখা গিয়েছে, আকাশ থেকে তিরের ফলার মতো নামছে বিমান। প্রাথমিক ভাবে দেখলে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র বলে ভুল হতে পারে। বিমানের নাক ছিল নীচে রাস্তার দিকে এবং লেজ ছিল আকাশের দিকে। নাকের অংশ সরাসরি রাস্তায় ধাক্কা খায় এবং বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
কী কারণে পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারালেন, এখনও স্পষ্ট নয়। টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওই বিমান রওনা দিয়েছিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বাহামাসের উদ্দেশে। জানা গিয়েছে, ৩৫ হাজার ফুট উপরে থাকাকালীন প্রথম ঝাঁকুনি হয়। পাইলট জানান, বরফ জমে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। বিমানটিকে আরও দু’হাজার ফুট উপরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু তার পরেই বিমানটি ধারাবাহিক ভাবে নীচের দিকে নামতে শুরু করে। আর তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি পাইলট। নীচে নামার সময় প্রথম দিকে বিমানের গতি ছিল মিনিটে ১০ হাজার ফুট। তার পর মিনিটে ২০ হাজার ফুট এবং ৩০ হাজার ফুট গতিতে তার উচ্চতা কমতে থাকে। কয়েক মুহূর্তেই বিমানটিতে বিস্ফোরণ হয়।
উচ্চতা কমার সময় পাইলট বার বার বিপদবার্তা পাঠিয়েছিলেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে। বলেছিলেন, ‘‘আমরা নামছি। মে ডে, মে ডে! আমরা ১০ হাজার ফুট প্রতি মিনিট গতিতে নীচের দিকে নামছি। একেবারে রাস্তায় গিয়ে আছাড় খেতে চলেছে আমাদের বিমান।’’ তার পর আর পাইলটের কোনও কথা শোনা যায়নি। এই দুর্ঘটনার তদন্ত করবে আমেরিকার ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফ্টি বোর্ড।