ব্রিক্স সম্মেলনের পর ৪৫ পাতার যৌথ ঘোষণাপত্রে যুদ্ধবিরোধী বার্তা থাকলেও আলাদা করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের নিবিড় সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই এই কৌশলী পদক্ষেপ বলে মনে করছিলেন কূটনীতিকরা। এই আবহে রাশিয়ার তরফে দাবি করা হল, ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
রুশ সংবাদসংস্থা তাস-এর প্রতিবেদনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিক্স-এর বৈঠকের ফাঁকে পারস্পরিক আলোচনার সময় এই বিষয়ে সাহায্যের প্রস্তাব দেন মোদী এবং জিনপিং। সমাধানসূত্র বার করার বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন তাঁরা। পেশকভ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারত এবং চিনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। এর পাশাপাশি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে সবিস্তার তথ্য নয়াদিল্লি এবং বেজিঙের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।
এর আগেও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে দু’পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর বিষয়ে আগ্রহপ্রকাশ করেছিলেন মোদী। তার পর অবশ্য কূটনৈতিক স্তরে অনেক পালাবদল ঘটে যায়। ২০২৫ সালের ভারত-পাক সংঘাত-সহ একাধিক যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করা ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও রুশ-ইউক্রেন সঙ্কট থামাতে উদ্যোগী হয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল শান্তিপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়া এবং ইউক্রেন সফরে যায়। সমাধানসূত্র অবশ্য এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে।
চলতি মাসেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন হতে চলেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই সে দেশের প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। পুতিন এই নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টিকে সমর্থন করছেন। সে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই দলই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। এই ভোটের আগে সমাধানসূত্র খোঁজার পথে এগোনোর বার্তা দিলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুতিন আরও কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে পারেন।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে পুতিনকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। এই সঙ্কট কাটাতে আমেরিকা মধ্যস্থতা করলে ওয়াশিংটন-মস্কোর সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেও নাকি দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। তার কারণ মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক যেমন বরাবরই মসৃণ, তেমনই ইউক্রেনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে ভারত। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এ একটি থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রধানকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “ভারতই একমাত্র দেশ, যারা একই সঙ্গে মস্কো, তেহরান এবং পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলতে পারে।”