যে সমস্ত দেশের সঙ্গে ইজ়রায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেখান থেকে পাইলটদের যাতায়াতে প্রথম থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার। বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকে বলা ছিল, এমন কোনও দেশের পাইলটকে যেন ইজ়রায়েলগামী বিমানে ওঠার অনুমতি না দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ওমানের পাইলটকে কী ভাবে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ক্যাপ্টেনের সহকারী হিসেবে নিয়োগ করা হল? প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্কের মধ্যে ইজ়রায়েল সরকার মেনে নিল, বিদেশি বিমানগুলি ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত নয়।
ইজ়রায়েলের পরিবহণ মন্ত্রক সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়ে ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা কোনও বিমানে নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির জন্য আদৌ তারা দায়ী নয়। কারণ, বিদেশি বিমানের পাইলট বা বিমানকর্মীদের পরিচয়, পারিপার্শ্বিক তারা যাচাই করে না। সেই দায়িত্ব নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে দেওয়া আছে। দেশের পরিবহণমন্ত্রী মিরি রেজেভের কথায়, ‘‘বিমানকর্মীদের পরিচয় যাচাই করার দায়িত্ব নিরাপত্তা আধিকারিকদের। তাঁরাই বলতে পারেন, কোথায় কতটা ঝুঁকি আছে। আমরা নিরাপত্তা আধিকারিক নই। বিদেশে আমাদের কর্মচারী নেই যাঁরা এই তথ্যগুলি যাচাই করবেন।’’ বিমানযাত্রা নিরাপদ নয় মেনে নিয়ে এর পরেই মন্ত্রী বলেন, ‘‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও কিছুরই ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা নেই। আমরা ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি না এমন ঘটনা আগামী দিনে আর ঘটবে না। বিদেশি বিমানসংস্থার বিমান সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।’’
আরও পড়ুন:
তা হলে গাফিলতি কার? ইজ়রায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে দেশের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওমানের সঙ্গে ইজ়রায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, সেখানকার কোনও পাইলটকে ইজ়রায়েলগামী কোনও বিমানে দায়িত্ব দিতে পারে না ফ্লাইদুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এই বিমান সংস্থার তরফে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে অভিযোগ, ইজ়রায়েলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই ধরনের তথ্য যাচাই করেনি।
দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে ওমানের অনেক পাইলটই ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ইজ়রায়েলে যাতায়াত করেছেন অবাধে। সে দেশের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি, নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট বিষয়টিকে গুরুত্বই দেয়নি। কূটনৈতিক সম্পর্কহীন দেশের পাইলটদের উপর খাতায়কলমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বাস্তবায়নের কোনও চেষ্টা করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিষয়টি বিমান সংস্থাগুলির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তার কোনও তদারকি হয়নি গত কয়েক বছরে। অভিযোগ, বিমান সংস্থাগুলিকে মাঝে মাঝে নিষেধাজ্ঞার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হত মাত্র। যে পাইলটেরা আসছেন, তাঁদের পরিচয় ও পটভূমি যাচাই করা হত না।
অভিযোগ, তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করে দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেন ওমানি সহকারী পাইলট। ককপিটে মারপিটের সময় বিমানটি ৩০ সেকেন্ডে ১৪,৩০০ ফুট নেমে গিয়েছিল। যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং সৌদি আরবে ওই বিমান জরুরি অবতরণ করে। ঘটনাটিকে ইজ়রায়েল এবং তদন্তকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে উল্লেখ করেছে।