সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দও ফিকে হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠস্বরের কাছে! তাঁরা সকলেই অভিবাসী। বেশির ভাগই সমুদ্র সাঁতরে মরক্কোর সীমান্তবর্তী স্পেনীয় শহর সেউতায় প্রবেশ করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছেন অন্তত ৬০ হাজার জন। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে সেউতায় পৌঁছোতে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। সেউতার স্থানীয় প্রেসিডেন্ট হুয়ান জিসাস ডিভাস জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ওই অঞ্চলের অচলাবস্থা কাটাতে তৎপর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ়।
১৫৮০ সাল থেকে মরক্কোর উত্তর উপকূলের সেউতা ছিটমহল স্পেনের অধীনে। জনসংখ্যা মেরেকেটে ৮৫ হাজার। প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে মরক্কো থেকে মানুষ ঢুকে পড়েন ওই এলাকায়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে সেই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। কেউ জলপথে, কেউ আবার স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় ঢুকে পড়েছেন। শুধু সেউতা নয়, আফ্রিকা মহাদেশে স্পেনশাসিত আরও একটি ভূখণ্ড রয়েছে— মেলিলা। ‘অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে বরাবরই সীমান্তে কড়া নজর রাখেন নিরাপত্তাকর্মীরা। বৈধ নথি না-থাকলে তড়িঘড়ি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে সেই রাশ উপেক্ষা করেই দলে দলে মানুষের ঢল ঢুকছে সেউতায়।
বৃহস্পতিবার থেকে সমাজমাধ্যমে এই ‘অনুপ্রবেশ’ সংক্রান্ত নানা ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, মূলত মরক্কোর নাগরিকদের একটি বিশাল দল তারাজল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার (ঢেউ-প্রতিরোধক বাঁধ) পেরিয়ে সেউতার রাস্তাগুলির দিকে এগিয়ে আসছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সমুদ্র সাঁতরে সেউতায় প্রবেশ করছেন। শুক্রবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অনেকে সমুদ্রে ডুবে মারা গিয়েছেন। আবার অনেকের মৃত্যু হয়েছে জনসমুদ্রে পদদলিত হয়ে।
আরও পড়ুন:
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের অনেককেই ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার এক ভাষণে সানচেজ় এই অনুপ্রবেশকে ‘ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ করেছেন। মানব পাচারকারীদের দুষেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী।
বিপুল সংখ্যক মানুষের সীমান্ত বেড়া ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ার ঘটনায় সৃষ্ট সঙ্কট সামাল দিতে সেউতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছিলেন। মাদ্রিদ জানিয়েছে, অনুপ্রবেশ আটকাতে সেউতায় তারা সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি ডুবুরিও পাঠাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয়। সেউতায় রাস্তা দিয়ে বইছে অভিবাসীদের সমুদ্র!