ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল সৌদির তাবুক শহরের হাসপাতালে। সিএনএন নিউজ ১৮-কে এক সূত্র জানিয়েছে, সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে স্মিতের মাথায় আঘাত করেছিলেন। সেই হামলা এতটাই জোরালো ছিল যে, স্মিতের খুলির একাংশ ভেঙে বসে যায়। শুধু তা-ই নয়, আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, তাঁর অপটিক নার্ভের উপর প্রভাব পড়ে বলেও ওই সূত্রের দাবি। মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা ছিল।
সূত্রের খবর, আঘাতের গুরুত্ব বুঝে সৌদির হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, খুলির ভেঙে যাওয়া অংশটি বসে যাওয়ার মস্তিষ্কের উপর সেটি চাপ সৃষ্টি করছিল। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল বলে সূত্রের খবর। খুলির ভাঙা অংশটি পুনর্গঠন করার পর তার পর ক্যাপ্টেন স্মিতকে দুবাইয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সেনা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে স্মিতকে। সূত্রের খবর, তিনি চিকিৎসায় ভাল সাড়া দিচ্ছেন। পরিবারকে স্মিতের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
স্মিত জানিয়েছেন, মাথায় জোরালো একটা আঘাত অনুভব করেন। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল তাঁর। হাত, পেট-সহ শরীরের বেশ কিছু জায়গায় আঘাতের কারণে প্রচুর রক্তপাতও হয়েছিল। ফলে তাঁর জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সৌদিতে নামার পরই আঘাতের গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। সূত্রের খবর, স্মিতের মাথায় ক্ষতের কারণে যন্ত্রণা উপশমে কড়ামাত্রার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিএনএন নিউজ ১৮ জানিয়েছে, চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছেন স্মিত। এক পা দু’পা হাঁটছেন। সামান্য খাবারও খাচ্ছেন।
সূত্রের খবর, আবার ককপিটে বসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন স্মিত। তাঁর দৃষ্টিশক্তিতেও কিছু সমস্যা হচ্ছে। সেটি সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা। উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিতের উপর হামলা চালান সহ-পাইলট হাম্মামি। তার পর বিমানটির দখল নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু ক্যাপ্টেন স্মিত এবং যাত্রীদের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।