ব্রিক্স সম্মেলনে ভারতে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্রিক্সের ‘আউটরিচ সেশন’-এ যোগ দেওয়ার জন্য তারেককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ভারত সফরের বিষয়ে আগ্রহী তিনি। সূত্রকে উদ্ধৃত করে ‘দ্য হিন্দু’ জানাচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব ভারতে আসতে চান তারেক। নভেম্বরে বা ডিসেম্বরের শুরুতে এ দেশে আসতে পারেন তিনি। তবে সফরের আলোচ্যসূচি (এজেন্ডা) আগে স্থির করতে চাইছেন তিনি। বিশেষ করে দিল্লি থেকে কী কী প্রাপ্তি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন এবং তা কী ভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন, তা-ও ভাবছেন তারেক।
বাংলাদেশের ওই আধিকারিকের মতে, তারেক হয়তো দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিক্স সম্মেলনে থাকছেন না। তবে তার অর্থ এই নয় যে, ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং কাছের প্রতিবেশীকে এড়িয়ে যেতে চাইছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথাও স্বীকার করেন ঢাকার ওই আধিকারিক। তাঁর বক্তব্য, তারেক জানেন যে নভেম্বরে বা ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁকে দ্বিপাক্ষিক সফরে দিল্লিতে আসতে হতে পারে। কারণ, গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির যত দ্রুত সম্ভব নবীকরণ করা দরকার বলে মনে করছে ঢাকা।
গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই তার আগেই গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নবীকরণ করতে আগ্রহী ঢাকা। ওই সূত্রের দাবি, গত ৩০ বছর ধরে চলে আসা এই জলচুক্তি দু’দেশের কাছেই ‘সফল’ বলে মনে করছে বাংলাদেশ। তাই এই চুক্তির নবীকরণের বিষয়েও আশাবাদী তারা।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি তারেকের দিল্লি সফরের জন্য দু’দেশের আধিকারিক স্তরে বৈঠক করে আলোচ্যসূচিও তৈরি করা প্রয়োজন বলে মত ওই সূত্রের। একই সঙ্গে ভিসা পরিষেবা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা।
বস্তুত, গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির নবীকরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মতামত উঠে আসতে শুরু করেছে ভারতের অন্দরে। এই চুক্তি বিহারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপিরই জোটসঙ্গী জেডিইউ-এর সাংসদ সঞ্জয় ঝা। তাঁকে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আশ্বাস দিয়েছেন, গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির নবীকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে বিহারের স্বার্থের কথাও মাথায় রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ঘোষণা করে দেয়, ব্রিক্স সম্মেলনে তারেক ভারতে আসছেন না। কোনও প্রতিনিধিও পাঠাচ্ছে না তারা। ‘প্রথম আলো’ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারেক রহমানকে। তবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।”