নিরক্ষরেখা বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানের অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নথিভুক্ত ইতিহাসের মধ্যে প্রথম বারের মতো ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁল গত ২২ অক্টোবর। সেপ্টেম্বরে ওই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে সর্বোচ্চ ৩.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেটাও গত দেড়শো বছরের সর্বোচ্চ। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় এল নিনিয়ো পরিস্থিতি তীব্রতর হয়ে হাজার বছরের মধ্যে সব থেকে কড়া রূপ নিতে চলেছে, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকবে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ও অগস্টের শুরুর দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। নাসার কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিশ্লেষণ করেও মহাসাগরের গভীরে এই উষ্ণ জল জমার প্রমাণ মিলেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দূষণে তপ্ত পৃথিবীতে এই বিপুল সামুদ্রিক তাপ যুক্ত হয়ে বিশ্ব আবহাওয়া এলোমেলো করে দিচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এই জোড়া প্রভাবে ২০২৭ সালমানুষের ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ‘সুপার এল নিনিয়ো’ পরিস্থিতি আগামী ডিসেম্বরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতেও এর প্রভাব চলবে। ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে ১৩% কম হয়েছে ইতিমধ্যেই। রেকর্ড দাবানল হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। পানামা খালে জলস্তর কমে গিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।
এ দিকে, প্রশান্ত মহাসাগরের মেক্সিকো উপকূলে ঘনীভূত হয়েছে শক্তিশালী হারিকেন ‘ভান্স’। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আগে থেকে ঠিক করে রাখা পর্যায়ক্রমিক তালিকার ভিত্তিতে এই নামকরণ। ছ’বছর পরপর একই নাম ফিরে আসে। ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালেও এই ঝড়ের নাম ছিল ‘ভান্স’। এ বার অত্যন্ত বিধ্বংসী হয়ে এলে নামটি বাতিল হয়ে যাবে, নয়তো ২০৩২ সালেও ঝড়ের এই নামই হওয়ার কথা। তবে আপাতত সমাজমাধ্যমে মিম আর কৌতূকের ঝড় চলছে বর্তমান আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের সঙ্গে ঝড়ের নামের কাকতালীয় মিল নিয়ে।