সম্ভাব্য চিনা আগ্রাসনের মোকাবিলায় এ বার দূরপাল্লার রকেট ব্যবহার করে সামরিক মহড়া চালাল তাইওয়ান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, আমেরিকায় তৈরি অত্যাধুনিক হিমার্স (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) রকেট ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বীপরাষ্ট্রটি এমন এক প্রতিরক্ষা বলয়ে পরিণত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।
বুধবার দেশটির পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় হিমার্সের ‘শুট-অ্যান্ড-স্কুট’ (গোলা নিক্ষেপ করে দ্রত অবস্থান পরিবর্তনের প্রযুক্তি) দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি। তাইওয়ান সেনা জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের তাইচুং এলাকায় পরিচালিত এই মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল হিমার্স-এর গতিশীলতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার সক্ষমতা তুলে ধরা। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েক বার চিনা যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের জল ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ। উত্তেজনার এই আবহে তাইওয়ান সেনার গোলন্দাজ (আর্টিলারি) বাহিনীর কমান্ডার কো মিং-পিন বলেন, ‘‘হিমার্সের কার্যকারিতায় আমরা মুগ্ধ হয়েছি।’’
আরও পড়ুন:
আমেরিকা থেকে আমদানি করা এই হিমার্স এইএম-১৪২ মাল্টিপল রকেট লঞ্চারের ‘সৌজন্যেই’ গত চার বছর ধরে রুশ ফৌজের অগ্রগতি অনেকটা রুখে দিতে পেরেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির অনুগত বাহিনী। হিমার্সের নির্ভুল ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারার মূলে রয়েছে বিশেষ নেভিগেশন ব্যবস্থা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘গাইরোস্কোপ’ এবং ‘অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সর’। এর ফলে লক্ষ্যবস্তুর নির্ভুল অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। হিমার্সের প্রতিটি হিমার্স সিস্টেমে রকেট নিক্ষেপের ছ’টি টিউব রয়েছে। এগুলো দিয়ে গাইডেড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমস (জিএমএলআরএস) ছোড়া হয়। যা বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের অগস্টে চিনের আপত্তি খারিজ করে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েনটেটিভসের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন। তার পরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সে সময় ধারাবাহিক ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করেছিল চিনা যুদ্ধবিমান। চিন-তাইওয়ান সঙ্কটের আবহে সে সময় আমেরিকার সপ্তম নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছিল সে সময়। বেজিঙের কমিউনিস্ট শাসকবর্গ বরাবরই গণতান্ত্রিক ‘দ্বীপরাষ্ট্র’ তাইওয়ানকে ‘চিনের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড’ বলে দাবি করেছে। যদিও তাইওয়ান তা মানতে রাজি নয়।