বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে জটিলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরি না-হলে তারেকের ভারতে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই দাবি তাঁর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের। সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘বাসস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, বাংলাদেশের স্বার্থের কথা ভেবে দিল্লি সফরের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ ঢাকা।
সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন রয়েছে। বাংলাদেশ তার সদস্য নয়। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ঢাকাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্যও তারেককে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক দিল্লিতে আসবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
কয়েক দিন আগেই বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেলি স্টার’ কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৫ অগস্টের মধ্যে ভারতে আসতে পারেন তারেক। তবে বাসস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, তারেকের দিল্লি সফর নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ‘সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থের’ কথা ভেবে ঢাকা এখন কোনও তাড়াহুড়ো না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, দু’দেশের পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলোচনা এবং ‘সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই’ তারেক ভারতে আসতে পারেন।
হুমায়ুন বলেন, “বিষয়টি ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের উপর নির্ভর করছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, তার বাস্তবতাকে প্রতিবেশী দেশকে সঠিক ভাবে অনুধাবন করতে হবে।” এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে দুই-তৃতীয়াংশের জনমত নিয়ে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারত কী ধরনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে চায়- তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ সফর করার কোনও যুক্তি নেই। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে উভয় দেশের ঐকমত্য এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া ছাড়া আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ।”
আরও পড়ুন:
গত মঙ্গলবারই ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ফের একবার তারেককে আমন্ত্রণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। তারেক ভারতে এলে তাঁর এই সফরকে ‘স্মরণীয়’ করে রাখা হবে বলে জানান তিনি। তবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লির এক ক্লাবে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। তা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ঢাকার। সাক্ষাৎকারে সে বিষয়টিও বুঝিয়ে দিতে চান তারেকের উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “হাসিনাকে সেখানে (ভারতে) রাজনৈতিক কিংবা সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থী।” এ ঘটনা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে ‘গভীর ভাবে ক্ষুব্ধ করেছে’ বলেও দাবি হুমায়ুনের।