মেক্সিকোর ছিমছাম শহর কেরেতারোয় এ বারও বসছে দুর্গাপুজোর আসর। ২০২২ সালে ‘কেরেতারো সার্বজনীন’-এর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পুজো পা দিচ্ছে পঞ্চম বছরে। এ বার দেবীর সাজ থেকে মণ্ডপের পরিকল্পনা— সবেতেই থাকছে বাঙালির চেনা ঐতিহ্যের ছোঁয়া। লাল পাড় সাদা শাড়িতে সাজবেন ত্রিনয়নী, মণ্ডপে আলপনা, বাঁশের কুলো, কাশফুল। দূর মেক্সিকোর মাটিতে এই আয়োজন যেন বাঙালির ঘরোয়া সংস্কৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা।
এই পুজোর আয়োজনে যেমন রয়েছেন প্রবাসী বাঙালি ও ভারতীয়েরা, তেমনই যুক্ত হয়েছেন মেক্সিকোর শিল্পী ও কলাকুশলীরা। গত বছরের মতো এ বারও প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে ইউনিটেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলা ও নকশা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলে দুর্গাপুজো এখানে শুধু একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, স্থানীয় শিল্পীদেরও সৃজনশীল অংশগ্রহণের ক্ষেত্র।
পুজোর পঞ্চম বর্ষকে ঘিরে এ বারের অন্যতম আকর্ষণ আন্তর্জাতিক উৎসব। মেক্সিকোর সঙ্গে এই আয়োজনে যোগ দিচ্ছে লেবানন, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও নাইজেরিয়া। বিভিন্ন দেশের মানুষের অংশগ্রহণে বাঙালির উৎসব পাবে আন্তর্জাতিক পরিসর। নিজেদের সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি অন্য দেশের শিল্প, ঐতিহ্য ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই পুজোর বড় প্রাপ্তি সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান। যাঁরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত নন, তাঁরাও এখানে অংশ নিতে পারেন নিজেদের মতো করে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে এই আয়োজন বাঙালি ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।
কেরেতারোর বাঙালিদের কাছে দুর্গাপুজো শুধু ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন নয়, নিজেদের সংস্কৃতিকে পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি বার্ষিক উদ্যোগ।