ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে সম্মানিত করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে সাহসিকতার জন্য সম্মানিত করা হল মচ্ছরকে। তাঁকে ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জ়ায়েদ টু’ সম্মান দেওয়া হয়েছে। এই সম্মান পাইলট মচ্ছরের হাতে তুলে দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ান।
ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা প্রশংসিত হয়েছে গোটা বিশ্বে। ইজ়রায়েল আগেই ঘোষণা করেছে যে, ক্যাপ্টেন স্মিতকে তাঁরা সম্মানিত করতে চান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও স্মিতের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছিল। এ বার তাঁকে সম্মানিত করল।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজ়েড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভে যাচ্ছিল। ওড়ার পর আড়াই ঘণ্টা সব ঠিকঠাকই ছিল। বিমান যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, তখন ককপিটে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, বিমানটিকে তিনি নীচে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। বিমানে তখন ক্রু মেম্বার-সহ ১৮০ জন ছিলেন। স্মিতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায়, পেটে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত হয়েও তিনি সহ-পাইলটকে ঠেকিয়ে রাখতে লড়াই চালিয়ে যান নিজের শেষ শক্তি দিয়েও।
ককপিটের দরজা কোনও রকমে খুলে দেন স্মিত। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে যাত্রীরা হতভম্ব হয়ে যান। তত ক্ষণে যাত্রীদের কয়েক জন ককপিটের ভিতরে ঢুকে সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। তার পর তাঁকে টেনে বার করে আনেন। ককপিটে দুই পাইলটের খণ্ডযুদ্ধের মাঝে বিমান ক্রমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ৩৪ হাজার ফুট থেকে হু-হু করে নীচে নামতে শুরু করে।
দু’মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। তত ক্ষণে যাত্রীরা বুঝে গিয়েছিলেন কিছু একটা বিপদ ঘটেছে। বিমান হু-হু করে নামছিল। বিমানের যাত্রীআসনে বসা দুই পাইলট তখন বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামিয়ে আনেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় স্মিতকে। সেখান থেকে পরে দুবাইয়ে নিয়ে আসা হয় চিকিৎসার জন্য। স্মিতের এই সাহসিকতার প্রশংসা করেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কারণ ওই বিমানের বেশির ভাগ যাত্রীই ছিলেন ইজ়রায়েলের। গোটা বিশ্বও তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছে।