আগামী ২৭ জুলাই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে আয়োজিত হতে চলেছে প্রাদেশিক নির্বাচন। কিন্তু আসন্ন এই নির্বাচনের আগে বিগত কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত সেই এলাকা। পাকিস্তান সরকারের বিরোধিতায় পথে নেমেছেন বহু মানুষ। ছড়িয়েছে অশান্তি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ময়দানে নেমেছে পাকিস্তান সেনাও। আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক বার গুলি চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বুধবারও পাক সেনার গুলিতে ১২ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থাও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তির প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর প্রকৃত তদন্তের দাবি জানাল। সেই সঙ্গে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে পাকিস্তান প্রশাসনকে সংযত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই-কমিশনার ভলকার টুর্ক।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই-কমিশনার ভলকার টুর্ক তাঁর বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ সরকারের কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের যাবতীয় অস্থিরতার পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের আর্জি জানিয়েছেন। সঙ্গে পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে পথে নামা বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’-কে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করার পথে হেঁটেছে পাকিস্তান সরকার। ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে এলাকার জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিল পাক সরকার। শাহবাজ় শরিফ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভলকার টুর্ক। প্রসঙ্গত, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিন কয়েক আগেই অন্তত চার হাজার সেনা জওয়ান মোতায়েন করেছিল পাকিস্তান প্রশাসন।
আবার গত কয়েক সপ্তাহের বিভিন্ন সময় বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান
অধিকৃত কাশ্মীর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সে দেশের সরকার। সেই নিরিখেও পাকিস্তান সরকারের সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই-কমিশনার ভলকার টুর্ক। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা চালু রাখার আবেদন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সে দেশের সরকারের দমন-পীড়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে ভারত এবং ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। এ বার সেই তালিকায় শামিল হল খোদ রাষ্ট্রপুঞ্জও।