Advertisement
E-Paper

ভারত এবং চিনের জন্য শাস্তির বিধান! অথচ রাশিয়ার একটি জিনিস আমদানি করতে পারবে আমেরিকা, নতুন বিলে দ্বিচারিতা

আমেরিকার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশকে তেল বিক্রি করে সেই অর্থে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে রাশিয়া। তাই ভ্লাদিমির পুতিনের দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে জব্দ করতে তাদের তেল বিক্রিতে রাশ টানার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০১
(বাঁ দিক থেকে) শি জিনপিং, নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন  এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিক থেকে) শি জিনপিং, নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

ভারত কিংবা চিন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে না। কিন্তু আমেরিকা দিব্যি মস্কো থেকে একটি পণ্য আমদানি করতে পারবে। মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষেই সম্প্রতি পাশ হওয়া প্রস্তাবিত বিলে এমনই দুই বিধান রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার আমেরিকার প্রাক্তন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামাঙ্কিত এই বিল (লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬) মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টিটিভসে পেশ করা হয়। সেখানে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৬২টি। আর বিপক্ষে ১৫৯টি। ফলে বিলটি এখন আইনে পরিণত হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। এই বিলে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারত, চিন-সহ মোট পাঁচটি দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই বিলের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবেন ট্রাম্প। অথচ ওই বিলেরই ১১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রে দু’টি ছাড় দেওয়া হয়েছে। একটি হল, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে ইউরেনিয়াম নিয়ে যে সমঝোতা রয়েছে, তা বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে। আর দুই, পরমাণু কেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কম বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আমদানি করতে পারবে ওয়াশিংটন।

আমেরিকার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশকে তেল বিক্রি করে সেই অর্থে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে রাশিয়া। তাই ভ্লাদিমির পুতিনের দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে জব্দ করতে তাদের তেল বিক্রিতে রাশ টানার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। ২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই বিভিন্ন দেশকে সস্তায় তেল বিক্রির প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। মস্কোর এই প্রস্তাব লুফে নেয় বহু দেশই। সেই দেশ থেকে তেল আমদানির নিরিখে প্রথম দুই স্থানে আছে যথাক্রমে চিন এবং ভারত।

অভ্যন্তরীণ তেলের বিপুল চাহিদা মেটাতে ভারত অনেকটাই রাশিয়ার অশোধিত তেলের উপর নির্ভরশীল। তেলবাহী জাহাজের আনাগোনার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে ‘কেপলার’ জানিয়েছে, অগস্ট মাসে ভারত প্রতি দিন ২১ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। ভারতে আমদানিকৃত তেলের ৪৫ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এ ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির রুশ নির্ভরতা আরও কিছুটা বেড়েছে। শেষ দু’মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমদানি করা তেলের পরিমাণের নিরিখে ৫০ শতাংশ রাশিয়া থেকে আনিয়েছে ভারত।

এর আগে রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস কেনে এমন পাঁচটি দেশের (ভারত এবং চিন-সহ) ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন আইনসভায় পাস হওয়া এই বিলে অবশ্য বলা হয়েছে, দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যাবে। আইনসভা শুল্ক আরোপে ছাড়পত্র দিলেও ট্রাম্প এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ করেন সেটাই দেখার। কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া এই প্রস্তাবিত আইনকে হাতিয়ার করে ভারত এবং চিনের মতো দেশগুলির সঙ্গে দর কষাকষির পথে হাঁটতে পারেন ট্রাম্প। ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করতে পারে ওয়াশিংটন।

US Tariff Russia-Ukraine Conflict Uranium

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy