আমেরিকার সঙ্গে আবার আলোচনায় বসল ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ফাঁকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক দফা আলোচনা করেছে তারা। এমনই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠককে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং আমেরিকা যুদ্ধে লিপ্ত। এই সংঘাতের কারণে বার বার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। কবে এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে, তা নিয়ে চিন্তিত গোটা বিশ্ব। এই সংঘাতের কারণে প্রভাব পড়েছে হরমুজ় প্রণালী-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জলপথ। এই সব জলপথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি-সহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। সংঘাতের কারণে সেই পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, সংঘাতের আবহে আমেরিকা-ইরান বৈঠক আশার আলো জাগিয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। যদিও সেই বৈঠকে নিজে উপস্থিত ছিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করেন। বৈঠক ইতিবাচক বলেও আবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সরব হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘একটি চুক্তি করা ইরানের জন্যই সুবিধাজনক।’’ সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য শান্তিচুক্তি নিয়ে অতীতেও আলোচনা হয়েছে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে। তবে কোনও বৈঠকই ফলপ্রসূ হয়নি। শান্তিচুক্তি এখনও অধরা। সেই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি ভাবতে পারি না কেন তারা (ইরান) চুক্তি করতে চাইবে না।’’ একই সঙ্গে ইরানকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, যদি চুক্তি করতে রাজি না-হয়, তবে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ফাঁকে আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য ইরান আবার নিজেদের শর্তগুলি তুলে ধরেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুজ পেজ়েশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আরাঘচিই উইটকফের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। সেই বৈঠকে আরাঘচি জানিয়েছেন, অবিলম্বে আমেরিকাকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সকল প্রকার প্রতিরোধ বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে। বৈঠক নিয়ে উইটকফ বলেন, ‘‘আলোচনা ভাল হয়েছে।’’ একই সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা দেখব এর (বৈঠক) ফলাফল কী হয়! তবে অবশ্যই চুক্তি করা ওদের জন্যই সুবিধাজনক।’’
আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ট্রাম্পের ভাষণেও ইরানের সঙ্গে চুক্তিটির কথা উঠে এসেছিল। ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখ করে জানান, তেহরানের সামনে এখন দু’টি পথ খোলা— চুক্তি করা অথবা নতুন করে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া। তিনি বলেন, ‘‘এ বার আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনও চুক্তি হবে, যা দেশটির পুনর্গঠন এবং অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে?’’ তার পরেই হুমকি সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, চুক্তি না হলে ইরানকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেবেন!
যদিও প্রথম থেকেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন ট্রাম্প। তিনি চান ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি হবে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরানকে যে কোনও ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের থেকে বিরত করতে চান ট্রাম্প। তবে ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত সব আলোচনাই ভেস্তে গিয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ় প্রণালীর বিষয়ে একমত না-হওয়ায়। এখন নিউ ইয়র্কের তিন ঘণ্টার আলোচনা কোনও সমাধানের দিশা দেখায় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল সারা বিশ্বের।