শেয়ারবাজারে ‘মেগা এন্ট্রি’ নেবে মার্কিন টেক জায়ান্ট তথা ‘ক্লড’ কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির নির্মাণকারী সংস্থা অ্যানথ্রোপিক। সেই লক্ষ্যে ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এটি বিশ্বের বৃহত্তম হতে পারে বলে খবর ছড়ানোয় লগ্নিকারীদের মধ্যে চড়ছে উত্তেজনার পারদ।
আইপিও আনতে সোমবার, ২৬ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘ইউনাইটেড স্টেটস সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’-এ নথি জমা করে অ্যানথ্রোপিক। সব কিছু ঠিক থাকলে বর্ষশেষের আগেই ওয়াল স্ট্রিটে তালিকাভুক্ত হবে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির এই সংস্থা। যদিও তার সম্ভাব্য তারিখ এখনও জানা যায়নি।
আরও পড়ুন:
এ বছরের জুনে আমেরিকার শেয়ারবাজারে পা রাখে ধনকুবের শিল্পপতি ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স। তালিকাভুক্তির আগে নিয়ম মেনে আইপিও আনে তারাও। এর থেকে ৮,৬০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে ওই প্রতিষ্ঠান। সেই রেকর্ড এ বার অ্যানথ্রোপিক ভাঙতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কৃত্রিম মেধার দুনিয়ায় ‘ক্লড’-এর অন্যতম বড় প্রতিযোগীর নাম ‘চ্যাটজিপিটি’। এর নির্মাণকারী সংস্থা হল আর একটি জনপ্রিয় মার্কিন টেক জায়ান্ট ‘ওপেনএআই’। এ বছর তারাও আইপিও আনতে পারে বলে সম্প্রতি তুঙ্গে ওঠে জল্পনা। যদিও আপাতত তাতে জল ঢেলেছেন সংস্থার ‘চিফ এগ্জ়িকিউটিভ অফিসার’ বা সিইও স্যাম অল্টম্যান।
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদি। এআই মডেলগুলির বিকাশের গতি কমানোর পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর ওই মন্তব্যকে ঘিরে দুনিয়া জুড়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। কিন্তু, কয়েক দিনের মাথাতেই মার্কিন টেক জায়ান্টটি শেয়ারবাজারে নথিভুক্ত হতে চাওয়ায় কিছুটা অবাক আর্থিক বিশেষজ্ঞ মহল।
বিশ্লেষকদের দাবি, আইপিও-র মাধ্যমে বাজার থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ তুলতে পারবে অ্যানথ্রোপিক। সেই টাকার সিংহভাগই ‘ক্লড’-এর সম্প্রসারণে ব্যবহার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এই পদক্ষেপ সিইও আমোদির মন্তব্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে মার্কিন টেক জায়ান্টটিকে ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়া একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।
অ্যানথ্রোপিক অবশ্য আইপিও-র মাধ্যমে বাজার থেকে কত টাকা তুলতে চায়, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সসিসকোর মাত্র পাঁচ বছর বয়সি এই স্টার্টআপ। সেই সঙ্গে বাড়বে আমোদি এবং তাঁর বোন তথা সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা দানিয়েলার সম্পদের পরিমাণ।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)