‘‘রোবট নিয়োগ করো, মানুষের সংখ্যা কমাও। পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।’’ রবিবার ‘দ্য অবজ়ারভার’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এই নিদানই দিয়েছিলেন মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। অদ্ভুত ভাবে তার ঠিক এক দিন পরই ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছাবসর দেওয়ার কথা ঘোষণা করল মার্কিন টেক জায়ান্ট সংস্থা। মাইক্রোসফ্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেনের নির্দিষ্ট কিছু টিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার নীচের স্তরের কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অর্থ বিনিয়োগের পাশাপাশি খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে ছেঁটে ফেলার পথে হাঁটতে চলেছে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। এই আবহেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে সহ-প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্যটি।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতার মত, ধীরে ধীরে মানবসভ্যতার রাশ উঠবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতেই। মানুষ আর এই গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকবে না বলে মনে করছেন তিনি। তিনি মনে করেন, এআইয়ের হাতেই প্রায় সমস্ত কর্মদক্ষতা নিয়ন্ত্রিত হবে। আর এর শুরুটা হবে হোয়াইট-কলার চাকরি দিয়ে। এর পর আসবে ব্লু-কলার চাকরি ও সবশেষে কায়িক শ্রমের ক্ষেত্রের চাকরিগুলি। তবে কৃত্রিম মেধার বাড়বাড়ন্তে সামগ্রিক সমৃদ্ধি বাড়লেও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে আশঙ্কা মার্কিন ধনকুবেরের। গেটস যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তা হল মানবকর্মীর সংখ্যা কমে গেলে করের পরিমাণও কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর দাওয়াই হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের উপর নামমাত্র কর এবং বিলিয়নেয়ারদের উপর উচ্চ কর আরোপ।
আরও পড়ুন:
মাইক্রোসফ্টের সাম্প্রতিক কর্মীবহর কমানোর যে পদক্ষেপ, তাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনও হাত নেই বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন বলা হয়েছে, এই বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের এআই পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের জন্য তহবিল জোগাড়ের পথ প্রশস্ত করছে। মাইক্রোসফ্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেনের নির্দিষ্ট কিছু টিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার নীচের স্তরের কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। তবে তথ্যভান্ডার, বিক্রয় এবং বিপণনে কর্মরত কর্মী-সহ কিছু নির্দিষ্ট কর্মীগোষ্ঠী এর আওতা থেকে বাদ পড়বেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরের (২০২৬ সাল) এপ্রিলেই মাইক্রোসফ্টের প্রায় ৮,৭৫০ জন মার্কিন কর্মীকে স্বেচ্ছামূলক অবসর গ্রহণের প্রস্তাব দেয়। গেটসের সতর্কবার্তা এবং মাইক্রোসফ্টের স্বেচ্ছাবসরের প্রস্তাব দু’টি পৃথক ঘটনা হলেও এর মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ার কর্মকর্তারা। দু’টি ঘটনাকে কাকতালীয় উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। কারণ মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টা পরই এক চতুর্থাংশ কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর দেওয়ার ঘোষণা করল মাইক্রোসফ্ট।