মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিল প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফ্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অর্থ বিনিয়োগের পাশাপাশি খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে ছেঁটে ফেলতে চায় মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। মাইক্রোসফ্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেনের নির্দিষ্ট কিছু টিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার নীচের স্তরের কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে তথ্যভান্ডার, বিক্রয় এবং বিপণনে কর্মরত কর্মী-সহ কিছু নির্দিষ্ট কর্মীগোষ্ঠী এর আওতা থেকে বাদ পড়বেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান একটি বিজ্ঞপ্তিতে কর্মীদের জানান, স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এই প্রস্তাব সংস্থার কর্মী পরিচালনার নীতিতে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর কথায় এই ধরনের স্বেচ্ছাবসর কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে আরও বেশি নমনীয়তা দেবে। এ ছাড়া তাঁরা তাঁদের নিজেদের পছন্দমতো জীবনের পরবর্তী অধ্যায় গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন:
প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য প্যাকেজেরও প্রস্তাব দিয়েছে মাইক্রোসফ্ট। এই প্যাকেজের আওতায় ক্ষতিপূরণ, সংস্থার শেয়ারের মালিকানা ধরে রাখার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যবিমার মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে চাকরি কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে স্বেচ্ছাবসরের প্রস্তাব যাঁরা ফিরিয়ে দেবেন সেই সমস্ত কর্মীদের চাকরি আদৌ সুরক্ষিত থাকবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংস্থার কর্মীমহলে। ‘বিজ়নেস ইনসাইডার’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মীদের পদমর্যাদা, কর্মস্থল এবং চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্যাকেজের শর্তাবলিতে কিছু রদবদল করা হয়েছে। কিছু কর্মী প্রতি ছ’মাসের চাকরির জন্য কয়েক সপ্তাহের মূল বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। অন্য দিকে, কিছু কর্মীর জন্য এক বছরের বেতনের সমপরিমাণ আর্থিক প্যাকেজের ব্যবস্থাও রেখেছে সংস্থা।
আরও পড়ুন:
চলতি বছর এই নিয়ে দ্বিতীয় বার কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে মাইক্রোসফ্ট। এর আগে, গত এপ্রিলে সংস্থাটি আমেরিকায় কর্মরত প্রায় ৭ শতাংশ কর্মীকে নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসর নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল বলে খবর। একটি জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সময় পাবেন তাঁরা। যাঁরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তাঁদের বছরের শেষ নাগাদ মাইক্রোসফ্ট ছেড়ে দিতে হবে।