উৎসবের মরসুমে ফের ছাঁটাই! কপাল পুড়তে চলেছে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘নেটফ্লিক্স’-এর কর্মীদের। ফলে, বছর শেষের আগেই চাকরি হারাবেন সেখানকার হাজারের বেশি কর্মী। আর্থিক বৃদ্ধির হার অত্যন্ত মন্থর হওয়ায় অনলাইন বিনোদন সংস্থাটি এ-হেন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর। যদিও এই নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ‘নেটফ্লিক্স’-এ ছাঁটাই সম্ভাবনার খবর প্রকাশ্যে আনে বেশ কিছু মার্কিন গণমাধ্যম। তাদের দাবি, চলতি আর্থিক বছরে (পড়ুন, ২০২৬-’২৭) কর্মীসংখ্যার ছ’শতাংশ হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকার এই জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। অভ্যন্তরীণ মেমো-তে ইতিমধ্যেই এর উল্লেখ করেছেন সংস্থার দুই সহকারী চিফ এগ্জ়িকিউটিভ অফিসার (সিইও) টেড সারান্ডোস এবং গ্রেগ পিটার্স।
আরও পড়ুন:
তবে, কর্মীদের এখনও সরাসরি ছাঁটাইয়ের দুঃসংবাদ শোনায়নি ‘নেটফ্লিক্স’। সূত্রের খবর, অভ্যন্তরীণ মেমোতে সংস্থার জোড়া সহকারী সিইও লিখেছেন, ‘‘বিশ্বকে বিনোদন দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এর জন্য আমাদের কর্মী ও সম্পদের অগ্রাধিকার নির্ধারণে আরও সুশৃঙ্খল হতে হবে।’’ এর পরই ওটিটি প্ল্যাটফর্মটিতে কর্মরতদের মধ্যে বাড়তে থাকে চাকরি যাওয়ার আতঙ্ক।
অনলাইন বিনোদনের বাজারে বর্তমানে প্রথম স্থান দখলে রেখেছে ‘নেটফ্লিক্স’। কিন্তু, আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে এর দর্শক। ফলে, কচ্ছপের গতিতে আর্থিক বৃদ্ধির সূচক উপরে উঠছে বললে অত্যুক্তি হবে না। চলতি অর্থবর্ষের (পড়ুন, ২০২৬-’২৭) প্রথম ত্রৈমাসিকে (পড়ুন, এপ্রিল-জুন) সেটা ছিল ১৬.২ শতাংশ। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (পড়ুন, জুলাই-সেপ্টেম্বর) যেটা ১৩.৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন:
আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রবণতা বজায় থাকলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১১.৭ শতাংশে পৌঁছোবে ‘নেটফ্লিক্স’-এর বৃদ্ধির হার। কারণ, গ্রাহকদের মধ্যে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খরচের প্রবণতা কমছে। জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের দাবি, এতে চলা যে কোনও সিরিজ়ের ক্ষেত্রে প্রথম সিজ়নের পর গড় দর্শক সংখ্যা কমতে দেখা দিয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এ বছরের শুরু থেকে ‘নেটফ্লিক্স’-এর শেয়ারের দামে ১৫ শতাংশের পতন লক্ষ করা গিয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি ক্রিকেট-ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলাও এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে। কিন্তু তাতে তাদের রাজস্বের অঙ্ক সে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।
২০২২ সালে শেষ বার কর্মী ছাঁটাই করে ‘নেটফ্লিক্স’। সে বার বছরের প্রথম তিন মাসেই দু’লাখ গ্রাহক হারায় এই অনলাইন বিনোদন প্ল্যাটফর্ম। এর জেরে চাকরি খোয়াতে হয় ৪৫০ জনকে। এ বার সেটা ১,০০০-র বেশি হওয়ায় সংস্থার অভ্যন্তরে কর্মচারি মহলে যে আতঙ্ক বাড়ছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।