গৃহঋণের সুদ বৃদ্ধি করল স্টেট ব্যাঙ্ক (এসবিআই)। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন নিয়ম। ফলে, পরিবর্তনশীল বা ফ্লোটিং হারে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য ধার নিলে, এ বার থেকে বছরে গুনতে হবে ৮.১৫ শতাংশ সুদ। আগে যেটা ছিল ৭.৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এতে বৃদ্ধির অঙ্ক ২৫ বেসিস পয়েন্ট।
উল্লেখ্য, পরিবর্তনশীল বা ফ্লোটিং হারে গৃহঋণের সুদ সমস্ত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সমান নয়। গ্রাহকের যোগ্যতা, ক্রেডিট স্কোর এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এটি নির্ধারিত হারের চেয়ে কিছুটা কম বা বেশি হতেই পারে। তাই ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এসবিআইয়ের নতুন সুদের হার নীচের তালিকায় তুলে দেওয়া হল।
এসবিআই জানিয়েছে, সমস্ত গৃহঋণ ৮.১৫ শতাংশের ‘এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক লিঙ্কড রেট’ বা ইবিএলআর-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। তবে, কিস্তির অঙ্ক ও শর্তাবলী ব্যক্তি বিশেষে বদলাতে পারে। নতুন নিয়মে ঋণগ্রহণকারীদের মাসে মাসে টাকা ফেরানোর অঙ্ককে কতটা প্রভাবিত করবে? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টা বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, বার্ষিক আট শতাংশ সুদের হারে কোনও ব্যক্তি ২০ বছরের মেয়াদে ৫০ লাখ টাকা গৃহঋণ নিয়েছেন। এতে তাঁর মাসিক কিস্তি দাঁড়িয়েছে ৪১,৮২২ টাকা। কিন্তু, নতুন নিয়মে সুদের হার বেড়ে ৮.২৫ শতাংশ হলে প্রতি মাসে ৪২,৬০৩ টাকা করে দেবেন তিনি। অর্থাৎ প্রতি কিস্তিতে ৭৮১ টাকা করে খরচ বাড়ছে তাঁর।
আরও পড়ুন:
এখানে অবশ্য একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সেটি হল ঋণের মেয়াদ, যা অপরিবর্তিত থাকলে তবেই এই হিসাব প্রযোজ্য। মেয়াদ কম বা বেশি হলে বৃদ্ধি বা হ্রাস পাবে কিস্তির অঙ্ক। উদাহরণ হিসাবে, নতুন সুদের হারে মাসে মাসে ৪২,৬০৩ টাকার বদলে ৪১,৮২২ টাকা দিয়েও ৫০ লাখি গৃহঋণ শোধ করতে পারেন গ্রাহক। কিন্তু, সে ক্ষেত্রে মেয়াদ বেড়ে দাঁড়াবে ২১ বছর।
পাশাপাশি, সময়সীমা বৃদ্ধির জেরে সুদ বাবদ অতিরিক্ত দিতে হবে ৪.৯৬ লক্ষ টাকা। আর্থিক বিশ্লেষকদের অনুমান, নতুন নিয়মে এক কোটি টাকার ঋণে মাসের খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ১,৫৬৩ টাকা। ফলে, ২০ বছরে প্রায় ৩.৭৫ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত দেবেন ওই ঋণগ্রহণকারী।