এ বার শেয়ার দুনিয়ায় পা রাখবে টাটাদের মূল সংস্থা টাটা সন্স? বছর শেষের আগেই ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও আনছে তারা? দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংস্থাটির আবেদন ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) খারিজ করতেই বাড়ছে সেই জল্পনা। যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি দু’পক্ষই।
উল্লেখ্য, বছর দুই আগে ব্যাঙ্ক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফসি-র (নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্সশিয়াল কোম্পানি) লাইসেন্স ছাড়তে চেয়ে আরবিআইয়ের কাছে আবেদন করে টাটা সন্স। সূত্রের খবর, সম্প্রতি তা খারিজ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। যার জেরে এ বার শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প গোষ্ঠীর মূল সংস্থা।
আরও পড়ুন:
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন খারিজের পাশাপাশি টাটা গোষ্ঠীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। সেখানেই তাদের শেয়ারের দুনিয়ায় পা রাখার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ফলে আইপিও আনার ক্ষেত্রে টাটা সন্সের আর কোনও বাধা নেই। এ ব্যাপারে যাবতীয় অনিশ্চয়তা দূর হল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বিশ্লেষকদের দাবি, ২০২২ সালের সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের বৃহৎ এনবিএফসিগুলির হোল্ডিং বা মূল সংস্থার মতোই টাটা সন্সকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে বলা হয়েছে। গত বছরের (পড়ুন, ২০২৫ সাল) সেপ্টেম্বরে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সেটা না করে আরবিআইয়ের কাছে লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করে তারা। কারণ, তাদের এনবিএফসির সিংহভাগ মালিকানা আছে টাটা ট্রাস্টের হাতে, যেটা দাতব্য প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরের অগস্টের গোড়ায় ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের ১৭টি বৃহৎ ব্যাঙ্ক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। সেখানে নাম রয়েছে টাটা সন্সের। এর পরই তালিকায় নাম থাকা সংস্থাগুলিকে আগামী তিন বছরের মধ্যে শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে টাটা সন্সের ৬৬ শতাংশ মালিকানা টাটা ট্রাস্টের কাছে রয়েছে। যার অছি পরিষদের বেশ কয়েকজন টাটা সন্সের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। অন্য দিকে, স্টকের দুনিয়ায় পা রাখতে ইচ্ছুক হোল্ডিং সংস্থাটির পরিচালন পর্ষদ। টাটা সন্সের ১৮ শতাংশ অংশীদারি আবার রয়েছে শাপুরজ়ি পালঞ্জি গোষ্ঠীর হাতে। তারাও তালিকাভুক্তির পক্ষে সায় দিয়েছে।
আগামী বছরের (পড়ুন, ২০২৭ সাল) ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের কাজের মেয়াদ। ইতিমধ্যেই তাঁর উত্তরসূরী খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবে নানা কারণে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ভুগছে টাটা গোষ্ঠী। সেটা কাটিয়ে কবে তারা আইপিও আনে, সেটাই এখন দেখার।