Advertisement
E-Paper

গ্রিন কার্ড নিষেধাজ্ঞায় শাপে বর! তথ্যপ্রযুক্তির স্টক কিনতে হুড়োহুড়ি, দুর্দান্ত কামব্যাক করল বাজার!

মার্কিন সরকার টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো এবং এইচসিএলটেকের মতো একাধিক সংস্থাকে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন কর্মসূচি থেকে সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে। সেই ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা আইটি সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন। তবে সেই আশঙ্কা মিথ্যে হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:২০

ছবি: সংগৃহীত।

মার্কিন গ্রিন কার্ডে অনিশ্চয়তার জেরে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির মাথায়। ফলে, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে তাদের স্টকের সূচক নিম্নমুখী হবে বলেই মনে করছিল বিশেষজ্ঞ মহল। যদিও বাস্তবে দেখা গেল উল্টো ছবি। দিনভর দেদার বিক্রি হয়েছে এ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার। ফলে বৃহস্পতিবারের (পড়ুন, ৮ অক্টোবর) শোচনীয় পতন ভুলে ফের ঘুরে দাঁড়াল সেনসেক্স ও নিফটি। বলা বাহুল্য, তাতে চওড়া হয়েছে লগ্নিকারীদের মুখের হাসি।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীবারে ১,০০০ পয়েন্টের বেশি পড়েছিল সেনসেক্স। কিন্তু, এ দিন দিনের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী থেকেছে সূচক। বাজার খুলতেই ৮০০ পয়েন্ট উপরে ওঠে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)। ২২,৫০০-এর কাছে পৌঁছয় নিফটি ৫০-ও। দিন শেষে ৭২,৪৭২ পয়েন্টে দৌড় থামিয়েছে সেনসেক্স। ৮৭৯ পয়েন্ট বেড়েছে বিএসইর সূচক। অন্য দিকে, নিফটিতে বৃদ্ধির অঙ্ক ২৮৮ পয়েন্ট।

বৃহস্পতিবার, ভারতের চারটি শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়ে দেয়, এ বার থেকে ইনফোসিস, এইচসিএল, উইপ্রো এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দেওয়া হবে না গ্রিন কার্ড। কারণ, ওই নথির অপব্যবহার করছে এই সমস্ত সংস্থা। যার জেরে চাকরির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা।

ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর এ-হেন নিষেধাজ্ঞা চাপায় সেগুলির স্টকের সূচক নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। কিন্তু, শুক্রবার সকাল থেকে তাদের শেয়ার বেশি পরিমাণে কেনা শুরু করেন লগ্নিকারীদের একাংশ। ফলে দ্রুত সবুজ জ়োনে ফিরে যায় বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ। এদিন নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক ১.৪৬ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ ১০০ সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৫৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতনের পর শুক্রবারের এই উত্থান অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ, মার্কিন সরকার টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো এবং এইচসিএলটেকের মতো একাধিক সংস্থাকে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন কর্মসূচি থেকে সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে। সেই ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা আইটি সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন। তবে সেই আশঙ্কা মিথ্যে হয়েছে। পাশাপাশি, টিসিএসের ত্রৈমাসিক ফলাফল এবং সাম্প্রতিক দরপতনের পর কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ আসায় বিনিয়োগকারীরা এই খাতের শেয়ার কিনতে শুরু করেন। এই দুই কারণেই শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞেরা।

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর বাজার খুলতে না খুলতেই হু-হু করে পড়তে থাকে স্টকের সূচক। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একদিনেই প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বেচে দেন। কয়েক কোটি টাকা হারিয়ে মাথায় হাত লগ্নিকারীদের। খাদের মুখ থেকে শেয়ারবাজারকে টেনে তুলেছে প্রযুক্তি খাতের স্টকগুলি। সাম্প্রতিক দরপতনের পর কম দামে শেয়ার কেনার কারণে বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের শুরুটা ভাল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে আয় বাড়ার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তাঁরা। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের শেয়ারগুলিও ভাল ফল করেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞেরা।

Sensex

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy