অব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ড থেকে সাবধান! এর জন্য হু-হু করে কমতে পারে সিবিল স্কোর। তখন কম সুদে ব্যাঙ্ক বা ব্যাঙ্ক বহির্ভূত আর্থিক সংস্থার (এনবিএফসি) থেকে ঋণ পাওয়া যে কঠিন হবে, তা বলাই বাহুল্য। ‘স্কোরবোর্ড’ ঠিক রাখতে কী করবেন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদন রইল তার হদিস।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের একাধিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল স্বল্পমেয়াদি ঋণ ও বিভিন্ন রকমের বিল পেমেন্ট। তবে কোনও গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে ক্রেডিট কার্ড নিষ্ক্রিয় রাখলে সেটিকে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করতে পারে ব্যাঙ্ক। অনেকে আবার কিছু দিন ব্যবহারের পর আলিমারির লকারে এটিকে ফেলে রাখেন। সে ক্ষেত্রেও চিরতরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় কার্ড।
আরও পড়ুন:
আর তাই এ ব্যাপারে দু’টি পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা। প্রথমত, স্থায়ী ভাবে ক্রেডিট কার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে হবে গ্রাহককে। দ্বিতীয়ত, এর সঙ্গে সিবিল স্কোরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সেখানও সূচক ঠিক রাখা খুব জরুরি। সেই কারণে বেশ কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন ব্যবহারকারীরা।
নিয়ম অনুযায়ী, ৩-১২ মাস ক্রেডিট কার্ড নিষ্ক্রিয় থাকলে ব্যবহারকারীকে বিষয়টি জানিয়ে দেয় ব্যাঙ্ক। এর পরই শুরু হয় স্থায়ী ভাবে সেটিকে বন্ধ করার প্রক্রিয়া। সেটা আবার ৩০ দিন আগে বাধ্যতামূলক ভাবে গ্রাহককে জানায় ক্রেডিট কার্ড সংস্থা। ওই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ব্যবহারকারী অবশ্য মত বদলের সুযোগ পেয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে পুনরায় কার্ড চালু করায় কোনও সমস্যা নেই।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এটিকে আর্থিক লেনদেনে ব্যবহার করতেই হবে, তার কোনও মানে নেই। গ্রাহক ইচ্ছা করলে শুধু মাত্র ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, এটিএম পিন বদল এবং লেনদেন নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের মতো কাজগুলি ক্রেডিট কার্ডের সাহায্যে সারতে পারেন। এতেও ‘সচল’ হিসাবেই গণ্য হবে সংশ্লিষ্ট কার্ড।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ডে লুকিয়ে থাকে নানা ধরনের ঝুঁকি। সেগুলি হঠাৎ বন্ধ করলে স্বল্পমেয়াদি ঋণে খরচের অঙ্ক বেশি হতে পারে। তা ছাড়া কার্ডের ঊর্ধ্বসীমার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাহক ব্যয় করে ফেললে, সেটা ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচিনা করে থাকে ব্যাঙ্ক। এই অবস্থায় কার্ড বন্ধ হলে অবশ্যই নীচের দিকে নামবে সিবিল স্কোরের সূচক।
আরও পড়ুন:
সেই কারণে ক্রেডিট কার্ডে সব সময় ছোটখাটো বিল মেটানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, এতে এক দিকে যেমন ব্যবস্থাটি চালু থাকবে, অন্য দিকে তেমনই সেই অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে তেমন কোনও সমস্যা হবে না গ্রাহকের।