কৃত্রিম মেধার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) দাপটে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে হাহাকার! কর্মী কমাতে লাগাতার ছাঁটাইয়ের রাস্তায় হাঁটছে বিশ্বের তাবড় টেক জায়ান্ট। সেই ছোঁয়া লেগেছে বহুজাতিক ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির গায়েও। কারণ, এআইয়ের সুবিধা নিতে কর্মসংস্থার মডেলকে নতুন রূপ দিচ্ছে তারা।
এ দেশের প্রথম সারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম হল টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, এইচসিএলটেক, উইপ্রো এবং টেক মাহিন্দ্রা। এরা প্রত্যেকেই গত তিন বছরে গড়ে ‘বেঞ্চ’ কর্মী কমিয়েছে। চলতি অর্থবর্ষ (২০২৬-’২৭) শেষ হতে হতে সেটা ৮-১০ শতাংশে নেমে আসবে বলেই মনে করছে বিশ্লেষকদের একাংশ।
আরও পড়ুন:
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে মুখ খুলেছে কর্মী সরবরাহকারী সংস্থা টিমলিজ ডিজিটাল। তাদের দাবি, এআই-পূর্ববর্তী যুগে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের এই প্রবণতা কখনওই দেখতে পাওয়া যায়নি। টিসিএস বা ইনফোসিসের মতো সংস্থাগুলি ২০-৩০ শতাংশ ‘বেঞ্চ’ কর্মীকে সব সময় ধরে রাখত বা রাখার চেষ্টা করত।
এখন প্রশ্ন হল, ‘বেঞ্চ’ কর্মী কারা? তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির বেতন তালিকায় এমন অনেকেই থাকেন, যাঁরা সরাসরি কোনও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের ফুটবল বা ক্রিকেট দলের রিজ়ার্ভ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এত দিন ‘বেঞ্চে’ অনেক বেশি কর্মী রাখছিল টিসিএস, ইনফোসিস বা টেক মাহিন্দ্রা।
আরও পড়ুন:
তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে এই ব্যবস্থা চালু থাকার নেপথ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। এই ব্যবসা পুরোপুরি ক্লায়েন্ট নির্ভর। ফলে যখন-তখন পরিষেবা চাইতে পারে দেশ বা বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তখন কর্মী নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজে নামা সময়সাপেক্ষ। কিন্তু ‘বেঞ্চে’ কর্মী থাকলে সেটা অনায়াসেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে টিমলিজ ডিজিটালের চিফ এগ্জ়িকিউটিভ অফিসার (সিইও) নীতি শর্মা বলেছেন, ‘‘বর্তমানে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি কমিয়েছে কর্মী নিয়োগ। এখন শুধুমাত্র কৃত্রিম মেধা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো বিশেষ দক্ষতা সম্পন্নদের চাকরি দিচ্ছে তারা।’’
আরও পড়ুন:
‘বেঞ্চ’ কর্মীর সংখ্যা হ্রাসের পাশাপাশি এখন আর কাউকেই বেশি দিন রিজ়ার্ভে বসিয়ে রাখতে চাইছে না দেশের কোনও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। আগে এর সময়সীমা ছিল ৪৫-৬০ দিন। সেটাই বর্তমানে ৩০-৪৫ দিনে নেমে এসেছে। সেটা আগামী দিনে আরও কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কর্মী সংখ্যা হ্রাস পেলেও নিয়োগ বন্ধ করেনি কোনও তথ্যপ্রযুক্তি সংখ্যা। সূত্রের খবর, আগামী দিনে ৬,০০০ ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করবে ইনফোসিস। একই রকম পরিকল্পনা রয়েছে টিসিএসেরও। বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীবাহিনী তৈরির দিকে বেশি নজর দিতে দেখা যাচ্ছে টাটা শিল্পগোষ্ঠীর এই প্রতিষ্ঠানকে।