শেয়ারবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই নিশ্চিত রিটার্নের আশায় এখনও এ দেশের আমজনতার একটা বড় অংশ স্থায়ী আমানত বা এফডিতে (ফিক্সড ডিপোজিট) বিনিয়োগ করে থাকেন। বর্তমানে এতে কোন সরকারি ব্যাঙ্কে সুদের হার সবচেয়ে বেশি? আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
একাধিক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সুদের হার ঠিক করে থাকে সরকারি ব্যাঙ্ক। তাই বছরের বিভিন্ন সময় এতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তা ছাড়া, স্থায়ী আমানতে লগ্নির সময়সীমার উপরেও সুদের হার কম বা বেশি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের দিন যে সুদ ধার্য হয়, মেয়াদ-উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেটা বদলে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
চলতি বছরের অগস্টে এফডিতে সর্বাধিক সুদ দিচ্ছে পঞ্জাব ও সিন্ধ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। এই দুই প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী আমানতের উপর বছরে ৬.৮৫ শতাংশ হারে সুদ পাবেন গ্রাহক। তবে মেয়াদের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। পঞ্জাব ও সিন্ধ ব্যাঙ্কে ৬৬৬ দিনের লগ্নিতে মিলবে ওই সুদ। সেখানে ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় টাকা রাখতে হবে ৯৯৯ দিন।
তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদা। এফডির উপর সর্বোচ্চ ৬.৭৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে এই দুই প্রতিষ্ঠান। প্রথমটিতে ৪৪৪ দিনের বিনিয়োগে এই সুবিধা পাবেন গ্রাহক। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে সর্বাধিক মুনাফা পেতে ৫৫৫ দিনের স্থায়ী আমানত করতে হবে তাঁকে।
পাঁচ, ছয়, সাত ও আট নম্বরে রয়েছে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ় ব্যাঙ্ক এবং পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। প্রথম দু’টি এফডি করলে বছরে ৬.৬৫ শতাংশ হারে সুদ পাবেন গ্রাহক। দ্বিতীয় দু’টির ক্ষেত্রে সর্বাধিক সুদের হার ৬.৬০ শতাংশ। ৫৫৫ এবং ৪০০ দিনের লগ্নিতে এই সুবিধা দিচ্ছে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক ও ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র।
ইন্ডিয়ান ওভারসিজ় ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ সুদ পেতে করতে হবে ৪৪৪ দিনের এফডি। অন্য দিকে, ৫৫৫ দিনের বিনিয়োগে একই সুদ দিচ্ছে কানাড়া ব্যাঙ্ক। দশম স্থানে থাকা ইউনিয়ান ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে আবার ৫৫৫ দিনে সুদের হার ৬.৫৫ শতাংশ।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই তালিকায় প্রথম ১০-এ জায়গা পায়নি দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসবিআই (স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া)। সেখানে এফডিতে সর্বোচ্চ সুদের হার ৬.৪৫ শতাংশ। তার জন্য ৪৪৪ দিনের লগ্নি করতে হবে গ্রাহককে।