শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিকের ২১ জন শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টিকে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার দেওয়া হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুরস্কারপ্রাপকদের মধ্যে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন, রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পাঁচ জন এবং পলিটেকনিক থেকে চার জন রয়েছেন। রাজ্য স্তরের পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন সরকারি এবং দু’জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। অন্য দিকে, পলিটেকনিকের চার জনের মধ্যে দু’জন সরকারি এবং দু’জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।
কীসের ভিত্তিতে পুরস্কার?
শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। শিক্ষকদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাদান ও শেখানোর কার্যকারিতা, আউটরিচ বা সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ড, গবেষণা ও উদ্ভাবন, স্পনসর্ড রিসার্চ, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং কনসালটেন্সি টিচিং-এর মতো বিষয়। অর্থাৎ, শুধু শ্রেণিকক্ষে ভাল পড়ানো নয়, গবেষণা, উদ্ভাবন, সমাজের সঙ্গে সংযোগ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদানকেও পুরস্কারের জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কী ভাবে বাছাই করা হয়েছে?
জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য অনলাইনে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পোর্টালের মাধ্যমে মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছিল। ‘জন ভাগীদারি’-র ভাগ হিসেবে প্রার্থীরা নিজেদের মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান এবং সহকর্মীরাও মনোনয়ন দিতে পেরেছেন। ২৬ মে থেকে ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছিল।
এর পরে দু’ধাপে চলে বাছাই প্রক্রিয়া। প্রথমে ‘প্রিলিমিনারি সার্চ-কাম-স্ক্রিনিং কমিটি’ মনোনয়নগুলি যাচাই করে প্রাথমিক ভাবে প্রার্থীদের বাছাই করে। এর পর শর্টলিস্ট হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে থেকে ‘কমিটি অফ জুরি’ বা বিচারকমণ্ডলী চূড়ান্ত পুরস্কারপ্রাপকদের নির্বাচন করে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পলিটেকনিকের শিক্ষকদেরও জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ২০২৩ সালে। এর ফলে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার-এর পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০২০-র ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টিদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়। সেই লক্ষ্যেই উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও জাতীয় স্তরে শিক্ষক সম্মানের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।