কোনও পণ্য বাজারে পৌঁছোনোর আগে তার নিরাপত্তা, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনার ক্ষেত্রে প্যাকেজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খাবার, ওষুধ, প্রসাধনী থেকে শুরু করে ই-কমার্সের পণ্য— প্রায় সব ক্ষেত্রেই উন্নত প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজন। ফলে প্যাকেজিং টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করে শিল্পক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যাঁদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজ়াইন এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের জন্য বিষয়টি একটি বিকল্প কেরিয়ার হতে পারে।
কী পড়তে হয়?
প্যাকেজিং টেকনোলজিতে শুধু প্যাকেট তৈরি শেখানো হয় না। প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ, প্লাস্টিক, কাচ, ধাতু এবং অন্যান্য উপকরণ, প্যাকেজ ডিজ়াইন, প্যাকেজিং মেশিনারি, প্রিন্টিং, প্যাকেজ টেস্টিং, পণ্যের সংরক্ষণ, গুণমান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং এবং প্যাকেজিংয়ের নিয়মকানুন সম্পর্কে পড়ানো হয়। খাদ্য ও ফার্মাসিউটিক্যাল প্যাকেজিংয়ের মতো বিশেষ ক্ষেত্রও এর ভাগ হতে পারে।
কোথায় পড়ার সুযোগ?
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ প্যাকেজিং (আইআইপি) প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়ানো হয়। এটি কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীন একটি স্বশাসিত সংস্থা। বর্তমানে আইআইপি-এর বিভিন্ন কেন্দ্রে প্যাকেজিং নিয়ে একাধিক কোর্স রয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দিল্লি কেন্দ্রে চার বছরের ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন প্যাকেজিং টেকনোলজি এবং দুই বছরের মাস্টার ইন প্যাকেজিং টেকনোলজি-এর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মুম্বই, কলকাতা ও অহমদাবাদের কেন্দ্রে দুই বছরের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন প্যাকেজিং এবং হায়দরাবাদ কেন্দ্রে এমএস ইন প্যাকেজিং টেকনোলজি পড়ানো হয়। লখনউ কেন্দ্রে তিন বছরের ডিপ্লোমা ইন প্যাকেজিং টেকনোলজি-ও রয়েছে। দিল্লির বিএস ও এমএস কোর্সগুলি গুরু গোবিন্দ সিং ইন্দ্রপ্রস্থ ইউনিভার্সিটি-র সঙ্গে যুক্ত। এই কোর্সে ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়।
স্নাতকের পরেও এ ক্ষেত্রে স্পেশ্যালাইজ়েশন করার সুযোগ রয়েছে। আইাইপি-এর পিজি ডিপ্লোমা-তে বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেকনোলজির বিভিন্ন শাখার স্নাতকেরা আবেদন করতে পারেন। গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, রাশিবিজ্ঞান, জৈবরসায়ন, জৈবপ্রযুক্তি, জীবনবিজ্ঞান, খাদ্যবিজ্ঞান, পলিমার সায়েন্স-সহ একাধিক বিষয়ে স্নাতকেরা এই বিষয়ে পড়তে পারবেন।
এ ছাড়া আইআইপি-এর বিভিন্ন কেন্দ্রে স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেট ও প্রশিক্ষণমূলক কোর্সও চালু থাকে। ফুড প্যাকেজিং এবং অ্যাপ্লায়েড প্যাকেজিং নিয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে নানা প্রতিষ্ঠানে।
আরও পড়ুন:
পেশাগত সুযোগ কতটা?
প্যাকেজিং টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করে প্যাকেজিং টেকনোলজিস্ট, প্যাকেজিং ইঞ্জিনিয়ার, প্যাকেজিং ডিজ়াইনার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এগ্জ়িকিউটিভ, প্যাকেজিং ডেভেলপমেন্ট এগ্জ়িকিউটিভ, প্রোডাকশন এগ্জ়িকিউটিভ, টেস্টিং স্পেশ্যালিস্ট-এর মতো পদে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। খাদ্য, ওষুধ, এফএমসিজি, প্রসাধনী, পানীয়, ই-কমার্স, কনজ়িউমার গুডস এবং রফতানি শিল্পে প্যাকেজিং পেশাদারদের চাহিদা রয়েছে।
এ ছাড়া প্যাকেজিং উপকরণ, প্যাকেজিং মেশিনারি, প্রিন্টিং, টেস্টিং ল্যাবরেটরি এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্যাকেজিংয়ের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে এই ক্ষেত্রে নতুন ধরনের কাজের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
প্যাকেজিংয়ের পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিমার-ভিত্তিক শিল্পে আগ্রহ থাকলে সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোকেমিক্যালস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোর্সও বিবেচনা করা যায়। সিআইপিইটি-এ প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা এবং অন্যান্য সার্টিফিকেট কোর্সও রয়েছে।
অর্থাৎ, প্যাকেজিং টেকনোলজি শুধু ‘প্যাকেট তৈরির’ বিষয় নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজ়াইন, উৎপাদন এবং পরিবেশ—এই একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয়ে তৈরি একটি বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা। সঠিক কোর্স বেছে নিয়ে শিল্পক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে এই বিষয়ে কেরিয়ার গড়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।